যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের কালো তালিকায় নেই কুবি, দাবি কর্তৃপক্ষের 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টস (ইউসিএ) বাংলাদেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ গ্রহণ করবে না বলে প্রচারিত খবরের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবি করেছে তালিকায় থাকা  “‘Cumilla University’ আসলে  দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘Comilla University’ (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়) নয়। কেননা, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৬’ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি নামের বানান সর্বত্র ‘Comilla University’ লেখা হয়ে থাকে। তবে, ওই তালিকায় ইংরেজি নামের বানানে ভিন্নতা থাকলেও, কাছাকাছি নাম হওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন, প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা' নামের একটা নামসর্বস্ব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বারবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া ‘Cumilla University’ নামের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পোর্টস মাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কালাম বলেন, প্রায় একই নামে আরেকটি অবৈধ বিশ্ববিদ্যালয় থাকায় সমস্যা পোহাতে হচ্ছে কুবি শিক্ষার্থীদের। এটা আমাদের ভবিষ্যতে আরও ভোগাতে পারে। কনফারমেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ ভাইভার সময় দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার সঙ্গে আমাদের ভার্সিটির নাম গুলিয়ে ফেলা হয় এবং অনেক প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়।

তবে ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টসের অনুমোদিত বাংলাদেশি এজেন্ট গ্র্যাজুয়েট ট্র্যাকার্স-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করে, Cumilla University নামের বানানটা ভুল এসেছে। তবে এটা দ্বারা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কেই (Comilla University) বোঝানো হয়েছে।

কালো তালিকাভুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে ওই এজেন্ট অফিস জানায়, ইউসিএতে জমা পরা আবেদনগুলো ভ্যারিফিকেশন করতে গিয়ে হয়তো কোনও সমস্যা ধরা পড়েছে, অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্টগুলোতে কোনও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাই কালো তালিকাভুক্ত করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে কালো তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে জানতে ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টসে (ইউসিএ) ই-মেইল করা হলেও জবাব মেলেনি। 

এদিকে এই নাম দিয়ে ইউসিএ কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে বোঝাচ্ছে তা পরিষ্কার করতে এরই মধ্যে ইউনিভার্সিটি ফর দ্য ক্রিয়েটিভ আর্টসকে চিঠি পাঠিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। সেখানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিভ্রাটের বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, ‘তাদের তালিকায় যে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কুমিল্লা আছে তাদের নামের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল নেই। তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে তালিকাভুক্ত করেনি। আমরা ইউসিএকে চিঠি লিখেছি, যেন তারা বিষয়টা স্পষ্ট করে। আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে কোথাও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও নেই। এটা বিভ্রন্তিকর।’