২৫ বছরে ‘বাঁধন’র যত অর্জন

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরে বিনামূল্যে লাখ লাখ ব্যাগ রক্ত ব্যবস্থা করে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’। সংগঠনটির হিসাবে সংখ্যাটা ৯ লাখ ৩৬ হাজার। এছাড়া, ২০ লাখ ১৭ হাজার মানুষকে রক্তের গ্রুপও জানিয়েছে ‘বাঁধন’।

সংগঠনটির ২৫ বছর পূর্তিতে রবিবার (১২ জুন) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ‘বাঁধন’-এর রজতজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এস এম কোরবান আলী।

তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধকরণ, রক্তদান ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই দীর্ঘ সময়ে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ব্যাগ রক্তদান, ২০ লাখ ১৭ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে দেওয়া, করোনাকালীন প্লাজমা সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে রোগীদের ৩২২ ইউনিট প্লাজমা প্রদান, ৭৪১টি পরিবার ও ৫৪৫ জন ব্যক্তিকে খাদ্যদ্রব্য সহায়তা দিয়েছে বাঁধন।

২৪ অক্টোবর সংগঠনটির রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ, রোগী ও ডোনারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে ‘বাঁধন অ্যাপস’ তৈরি, ২৫ বারের বেশি রক্তদাতাদের সম্মাননা, বাঁধন মিলনমেলা, স্যুভেনির প্রকাশসহ ১৪টি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান কোরবান আলী।

এছাড়াও সংগঠনটির কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, দরিদ্র থ্যালাসেমিয়া রোগীদের বিনামূল্যে রক্ত পরিসঞ্চালনের ব্যবস্থা করা। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের বিনামূল্যে রক্তের স্ক্রিনিং ও ক্রসমেচিং করা। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ ইত্যাদি।

আগামী ২৮ অক্টোবর সাবেক ও বর্তমান কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে মিলনমেলার আয়োজনও করেছে সংগঠনটি।

‘একের রক্ত অন্যের জীবন, রক্তই হোক আত্মার বাঁধন’ স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলে একটি বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৯৯৭ সালের ২৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে বাঁধন।

সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত সংগঠনটি বর্তমানে দেশের ৫৩টি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের ৭৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৪০টি ইউনিট আছে। সক্রিয় কর্মী আছে ২ হাজার ৪৪৩ জন। এছাড়া, এখনও কাজ করে চলেছেন সক্রিয় সাবেক কয়েক হাজার কর্মী।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন বাঁধনের উদ্যোক্তা মো. শাহিদুল ইসলাম রিপন, বাঁধন ফাউন্ডেশনের সভাপতি রকীব আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মীর আসাদুজ্জামান রিন্টু, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা আসাদুল ইসলাম আসাদ, বাঁধন, রজত জয়ন্তী উদযাপন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মাজহারুল হুদা লিজন, বাঁধন কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহ নেওয়াজ প্রমূখ।