জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রীকে প্রশ্ন সরবরাহের অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সহযোগী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার সাহার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে অনৈতিকভাবে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহের অভিযোগের ভিত্তিতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহানকে আহ্বায়ক এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন ও লাইফ অ্যান্ড আর্থসায়েন্স অনুষদের ডিন ড. মো. মনিরুজ্জামান খন্দকারকে সদস্য করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনও আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনও সভা হয়নি। আহ্বায়ক সভা ডাকলে তদন্তের কাজ শুরু হবে। তদন্ত শেষে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুয়েল কুমার সাহার বিরুদ্ধে বিভাগের স্নাতক পর্যায়ের চূড়ান্ত বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীকে তার নিজের কোর্স ‘ক্লাসিক্যাল ইলেকট্রো ডাইনামিকস-১’সহ আরও কয়েকটি কোর্সের অভ্যন্তরীণ প্রশ্ন পরীক্ষার আগে সরবরাহ করার অভিযোগ ওঠে।
২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় বর্ষের ওই কোর্সের মানোন্নয়ন পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকলসহ ওই নারী শিক্ষার্থীকে আটক করেন। পরে তার সঙ্গে থাকা নকলের সঙ্গে পরীক্ষায় আসা অধিকাংশ প্রশ্নের মিল দেখতে পান শিক্ষকরা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে প্রশ্ন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেয় এবং জুয়েল কুমার সাহা পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন সরবরাহ করেন বলে স্বীকার করে।