সাংবাদিক হেনস্তায় জড়িত জবির সেই ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কর্মরত এক সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত শাখা ছাত্রলীগের সেই কর্মী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভাসমান দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।  

জবিতে ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ   

চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত গাজী মো. শামসুল হুদা নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির অনুসারী।

বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভাসমান দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের নামে নিয়মিত চাঁদা তোলে একটি চক্র। কিছুদিন পরপর চাঁদা তুলতে আসা লোকের পরিবর্তন হয়। কয়েক মাস আগেও অভিযুক্ত গাজী এই চক্রের হয়ে চাঁদা তুলতেন। বিভিন্ন সময় তাদের চাঁদা না দিলে মারধরও করা হয়। চাঁদাবাজি করার সময়ে অভিযুক্ত গাজীর একটি ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। এ ছাড়া দোকানদারদের স্বীকারোক্তিমূলক অডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ফুটপাতের কিছু ফল দোকানে দোকানদারদের সঙ্গে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির আরেক অনুসারী রবিউল ইসলাম রবির নাম উল্লেখ করে চাঁদার টাকা চাচ্ছে। তিনি সিআইডির প্রশ্ন ফাঁস তালিকার আসামিও ছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন ফুটপাতে ছয়-সাতটি ফল দোকান বসে নিয়মিত। সেসব দোকান থেকে দুই মাস আগে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ করে প্রতিদিন চাঁদা তুলতেন অভিযুক্ত গাজী মো. শামসুল হুদা।

দোকানদাররা জানান, বর্তমানে চাঁদার পরিমাণ দৈনিক ২০০ করে নির্ধারিত করা হয়েছে। তবে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোনও শিক্ষার্থী দৈনিক এ চাঁদা তোলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল দোকানদার বলেন, ‘এখন তো ২০০ করে প্রতিদিন নেয়। কিছুদিন আগে যখন নির্ধারিত ছিল না তখন গাজী নামের একজন এসে কোনোদিন ১৫০, কোনোদিন ২০০ করে টাকা তুলতো। আমরা ভাবতাম, ভেতর থেকে পাঠাইছে, তাই আমরাও দিতাম। আর তখন এখানকার লাইনম্যানদের সঙ্গে ঝামেলাও ছিল।’

এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্ত গাজী মো. শামসুল হুদাকে ফোন দেওয়া হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি গাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘কমিটি হওয়ার আগে ছেলেরা হয়তো কিছু করতো। কিন্তু নতুন কমিটি দেওয়ার পর যখন জানতে পারি গাজী এর সঙ্গে জড়িত, তখন তাকে ডেকে একদিনে তিনবারও মেরেছি সংশোধন হওয়ার জন্য।’

এর আগে, গত শুক্রবার শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজির অনুসারী গাজী মো. শামসুল হুদার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে হেনস্তা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।