তারেক-জোবাইদার সাজা

জাবিতে ছাত্রদলের মশাল মিছিল, বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের নিন্দা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। 

বুধবার (২ আগস্ট) রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল মসজিদ থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিশমাইল গেইট দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এসময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রায়, মানি না মানবো না’, ‘অবৈধ মামলার অবৈধ রায়, মানি না মানবো না’ বলে স্লোগান দেয়।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রদল নেতা নাইমুল হাসান কৌশিক বলেন, ‘দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নীতি, আদর্শ ও জনপ্রিয়তাকে মোকাবিলা করতে না পেরে প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে ফরমায়েশি এই রায় দিয়েছে ভোট চোর সরকার। আমরা অবিলম্বে এই রায় বাতিলের দাবি জানাই। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে এই অবৈধ সরকারকে পৃথিবীর নিকৃষ্ট স্থানে নিক্ষেপ করা হবে।’

এ সময় মীর মোশাররফ হোসেন হলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসাইন, ছাত্রদল নেতা আরিফুজ্জামান আরিফ, যোবায়ের আল মাহমুদ, রেজাউল আমিন রেজা, সাহানুর রহমান সুইট, মো. রাজন মিয়া, মো. হাসান, দেওয়ান আলাউদ্দিন, জিল্লুর রহমান, মুরাদ, রিশাত, শরীফুল ইসলাম শরীফ, জিসানসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে একই দিনে রায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা বার্তা দিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭ জন শিক্ষক এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে বার্তা থেকে জানা যায়।

নিন্দা বার্তায় বলা হয়, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বানোয়াট দুর্নীতির মামলায় বিস্ময়করভাবে দ্রুততার সাথে বিচার কাজ পরিচালনা করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০০৭ সালে তৎকালীন ক্ষমতা জবর দখলকারী সরকারের দায়ের করা মামলার দীর্ঘ ১৬ বছর পর অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ও আজ ২ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়। মাত্র ১৬ কার্যদিবসে ৪২ জনের সাক্ষ্য নিয়ে রায় ঘোষণা করাই প্রমাণ করে এই পুরো বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জনপ্রিয়তা হারিয়ে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া আওয়ামী লীগ সরকার এখন রাজনীতিকেও আদালতের প্রাঙ্গণে নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রাখার চক্রান্ত করছে। দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এই ফরমায়েশি রায় এক ন্যাক্কারজনক নজির হয়ে থাকবে।’