জনগণের সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যেসব পক্ষ থাকবে না, তাদের বিষয়ে এ দেশের জনগণ নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে উল্লেখ করেছেন ভোটাধিকারের নিশ্চিতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ কিছু শিক্ষার্থী।
শনিবার (১৯ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে ভোটাধিকারের দাবিতে ছাত্রসমাজ প্ল্যাটফর্মের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।
ঢাবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ও ভোটাধিকারের দাবিতে ছাত্রসমাজের সংগঠক আরমানুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সৈকত আরিফ, ঢাবি শিক্ষার্থী উমামা ফাতেমা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ সোহেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা মুনা, নাহিদুল ইসলাম, রাসেল আহমেদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাইরান আবাবিল রোজা, ইউডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. শাকিল হোসেন, পলিটেকনিক ইনস্টিউটের শিক্ষার্থী সাকিবুল ইসলাম শাফিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সৈকত আরিফ বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে র্নিদলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। কেননা বিগত দুটি নির্বাচন (২০১৪ ও ২০১৮) দলীয় সরকারের অধীনে হয়েছে এবং দুটি নির্বাচনেই জনগণ ভোট দিতে পারেনি। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে আমরা বিভিন্ন আন্তজার্তিক পক্ষের বিভিন্ন তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন কোনও দলের দাবি নয়, বরং জনগণের দাবি। বাংলাদেশের জনগণের সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যেসব পক্ষ না থেকে এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পক্ষে থাকবে, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে এ দেশের জনগণ নতুন করে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সব পক্ষকে বাংলাদেশের জনগণের দাবির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।
সভাপতির বক্তব্যে আরমানুল হক বলেন, একটা রাষ্ট্রে যখন জনগণের ভোটাধিকার থাকে না, তখন সেই শাসন দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলে। ভোটাধিকার না থাকলে সমাজে গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমাগত সংকুচিত হতে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হওয়ায় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কতটা শোচনীয় হয়েছে, সেটা আমাদের সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে।
ঢাবিসহ সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণরুম-গেস্টরুমের নামে শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন-নির্যাতন করা হচ্ছে। জোর করে মিছিল-মিটিংয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা যদি স্থায়ীভাবে জনগণের ভোটাধিকার কায়েম করতে পারি, তাহলে দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর বাড়বে। তাই ভোটাধিকারের লড়াই সবার লড়াই। আমরা সারা দেশের ছাত্রসমাজকে সেই লড়াইয়ে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।