বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসে মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা 

পরীক্ষা দিতে এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হেনা মুরসালিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, দুপুরে ক্যাম্পাসের শান্ত চত্বর এলাকায় ভুক্তভোগীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন- গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাতসহ কয়েকজন। তারা সবাই শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম আক্তার হোসাইনের অনুসারী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, মারধর খবর পেয়ে আমি সহকারী প্রক্টরকে পাঠাই। সেখান থেকে ওই শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কি না সেটা পুলিশ যাচাই করে। মামলা না পাওয়ায় আমরা তাকে ছেড়ে দেওয়ায় সুপারিশ করি।

রাজনৈতিক কারণে কোন শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে এভাবে মারধর করতে পারে কি না তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ক্যাম্পাস সবার, এভাবে কেউ কাউকে মারধর করতে পারে না। ওই শিক্ষার্থী যদি কোনও অন্যায় করে তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

সদরঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হাসান মাতবর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ওই ছাত্রকে আমার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে।

জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন দাবি করেন, ক্যাম্পাসে কোনও মারধর বা হামলার ঘটনা ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ কোনও দ্বন্দ্বের দায় ছাত্রলীগ নেবে না।

শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, পরীক্ষা দিতে এসে আমাদের কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কতিপয় ছাত্রলীগকর্মী দ্বারা আহত হয়েছেন। এর আগেও কয়েকজনকে পরীক্ষার হলে গিয়ে মেরে আহত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল হামলাকারীদের ধরে পুলিশে দেওয়া। তারা তো তা করেইনি, উল্টো হামলায় আহত হওয়া শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে তারা বেআইনি এবং বিমাতাসূলভ আচরণ করেছেন। আমরা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাজিনা সুলতানা বলেন, মুরসালিন তার মিডটার্ম পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পরই হামলার শিকার হয়। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলেছি।