ক্রিকেটকে বলা হয় খেলার রাজা। ক্রিকেটপাগল জাতি হিসেবে পরিচিত বাঙালি দেশের যেকোনও খেলায় মেতে উঠেন ক্রিকেটীয় আমেজে৷ আর যদি হয় তা বিশ্বকাপ তাহলে তাতে যোগ হয় কয়েকগুণ বেশি উন্মাদনা। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মিশন শুরু হয় ৭ অক্টোবর ধর্মশালায়। জয় দিয়ে দারুণ শুরুর পর বেশ উচ্ছ্বসিত টাইগারভক্তরা।
আর এই রকম বড় আয়োজন মানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) বড় পর্দায় খেলার উন্মাদনায় মেতে ওঠা। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ভিন্ন এক মিলনমেলা। ধর্মশালায় খেলা হলেও এখানেও যেন আরেক স্টেডিয়াম। টিএসসির খোলা চত্বরে দাঁড়িয়ে বা দেয়ালে বসে খেলা দেখছেন সব শ্রেণির মানুষ।
মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশের সাথে ইংল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালে সরেজমিনে দেখা যায়, রিকশা থামিয়ে দেশের খেলা দেখছেন অনেক রিকশাচালকও। জানতে চাইলে তারা জানান, দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশের খেলা দেখি। দেশ হারুক বা জিতুক দেশের ছেলেদের সাথে সব সময় থাকবেন তারা।
রিকশাচালক রশিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে রিকশা চালিয়েছি। এখন বিকাল থেকে খেলা দেখতে বসলাম। সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে আর দেশের সমর্থনে খেলা দেখি। দেশকে ভালোবাসি বলেই দেশের খেলা সব সময়ই দেখি। হারলে মন খারাপ হয়। তবুও আমাদের আশা আমরা ভালো কিছু করবো।
টিএসসিতে খেলা দেখতে আসা ঢাবি শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, জানি আমরা হয়তো তিনটা ম্যাচ জিতবো বা চারটা। কিন্তু তবুও আমরা সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে সেমিফাইনাল আশা করতে চাই। বড় আশা করতেই ভালো লাগে। আমরা চাই দেশ অন্তত সেমিফাইনাল খেলুক।
খেলা উপভোগ করতে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থী আফজাল বলেন, সাধারণত আমি বাসায় বা হলে খেলা দেখি কিন্তু সেখানে টিএসসির মতো উৎসব-উদযাপন হয় না। টিএসসিতে বড় পর্দায় খেলা দেখা শুরু করায় এখানেই যতটা সময় পারি খেলা দেখি। অনেক দর্শক একসাথে খেলা দেখে মনে হয় যেন মাঠে বসেই দেখছি। দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী সেমিফাইনালে যাওয়াও হয়তো দুষ্কর, তবুও স্বপ্ন দেখি।
অন্য আরেক শিক্ষার্থী হাসান তারিক বলেন, বড় পর্দায় বসে খেলা দেখার মজা অন্যরকম। তাছাড়া যেকোনও খেলা বাসায় একা দেখায় আনন্দ পাওয়া যায় না। তাই তো ক্লাস শেষেই টিএসসি চলে এসেছি বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য। হারুক বা জিতুক খেলা উপভোগ করি, নিজ দেশের টিমকে সাপোর্ট করি এটাই আনন্দের।