শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মাঠ ফিরে পেলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

তিন বছর পর শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আবারও পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা খেলার মাঠটি ফিরে পেলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যাল (জবি)। এখন থেকে এই মাঠের নাম হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে রবিবার (১৮ আগস্ট) মাঠটি বুঝিয়ে দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান।

এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, ঐতিহাসিক এই মুহূর্তে প্রথমেই আমি আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সরকারি খাসজমির এই মাঠ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবহার করতে পারছিল না। পুনর্দখলের মাধ্যমে আজকে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্থায়ী সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দিতে বলবো।

তিনি আরও বলেন, এখানে মোট ৫ দশমিক ৩২ একর জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে ৪ দশমিক ৫০ একর জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হলো। বাকি যে জায়গাটুকু রয়েছে— সেটি এখন মূল মাঠের পাশে ইস্টার্ন ক্লাবের দখলে রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীকালে সেটুকুরও ব্যবস্থা নেবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির চৌধুরী বলেন, মাঠটিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতো। তবে কী কারণে সেটি বেহাত হয়ে গিয়েছিল, সে কারণ আমি আজও খুঁজে পাই না। শিক্ষার্থীরা মাঠটির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানালে তাদের দাবি মেনে নিয়ে মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আজ বুঝিয়ে দিলো প্রশাসন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মাঠটি বুঝিয়ে দেওয়ায় জেলা প্রশাসকসহ যেসব শিক্ষার্থী এই উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। এই মাঠে দ্রুত একটি টুর্নামেন্টের আয়োজন করার কথাও জানান।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের একটি দল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে ধূপখোলা খেলার মাঠটি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে খেলার মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তর করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

২০২১ সালের জুনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে মার্কেট নির্মাণের শঙ্কায় ডিএসসিসিকে চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে সিটি মেয়রের সঙ্গে দেখা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে কোনও স্থাপনা নির্মাণ না করার আশ্বাস দেওয়া হয়। তখন খেলার মাঠ থেকে খুঁটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ওই বছরের ২ অক্টোবর গভীর রাতে আবারও পুরো মাঠ ঘিরে রাখা হয়। মাঠের গোলপোস্ট ও সীমানা প্রাচীরগুলো তুলে ফেলে সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর ধূপখোলা মাঠটিকে আধুনিকায়ন করে উদ্বোধন করেন ফজলে নূর তাপস।

তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছিল, সিটি করপোরেশনের মেয়র আশ্বাস দিলেও তাদের না জানিয়েই মাঠে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজ বন্ধ করতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলেও জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার নিজস্ব কোনও মাঠ না থাকায় ধূপখোলা খেলার মাঠটিকে তিন ভাগ করেন। এর মধ্যে এক ভাগ তৎকালীন সরকারি জগন্নাথ কলেজকে ব্যবহারের জন্য মৌখিকভাবে অনুমতি দেন। তখন থেকেই খেলার মাঠ হিসেবে ধূপখোলা মাঠটিকে ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। এই মাঠেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।