সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় এক সমন্বয়ককে অব্যাহতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমেদ ওরফে শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় সহিংসতায় অংশগ্রহণের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আহসান লাবিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিবৃতির নিচে লেখা ছিল ‘বার্তা প্রেরক, সমন্বয়কবৃন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতায় অংশগ্রহণের অভিযোগ থাকায় আহসান লাবিবকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়ার আগপর্যন্ত এই অব্যাহতি বহাল থাকবে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আহ্বান জানাচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম আহমেদকে মারধরের ঘটনায় আহসান লাবিবের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীম আহমেদের মৃত্যু হয়।’

আহসান লাবিব জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা গেট (প্রান্তিক গেট) এলাকায় শামীম মোল্লা পিটুনির শিকার হন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রক্টর অফিসে আনা হয়। সেখান থেকে বিনা বাধায় শামীমকে পাশের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান কতিপয় ব্যক্তি। সেখানে আরেক দফায় মারধরের শিকার হন। পরে কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে আবারও মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের (৩৯তম ব্যাচের) ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম মোল্লা ক্যাম্পাসের প্রান্তিক গেটে গণপিটুনির শিকার হন। পরে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বুধবার আনুমানিক বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে সেখানে তাকে কতিপয় ব্যক্তি মারধর করেন। খবর পেয়ে প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রক্টর অফিসের একটি কক্ষে রাখা হয়। এ সময় আশুলিয়া থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়। কিছুক্ষণ পর কতিপয় ব্যক্তি প্রক্টরিয়াল টিমকে না জানিয়ে জোর করে শামীমকে পাশে অবস্থিত নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যান।

ঘটনাটি জানতে পেরে নিরাপত্তা অফিস থেকে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ করে দেন প্রক্টর। তখন গেট ভেঙে কয়েকজন ভেতরে ঢুকে শামীমকে আবারও মারধর করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টায় পুলিশ এসে জানায়, শামীমের নামে থানায় একাধিক মামলা আছে। রাত ৮টার দিকে তাকে নিরাপত্তা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া। রাত ১০টার দিকে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কল করে জানান, স্থানীয় গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের মৃত্যু হয়েছে।