ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসন সংকট নিরসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে আগামী মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ‘ভিসির বাংলোয় ঠাঁই চাই’ শীর্ষক কর্মসূচির পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু।
ইমু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলন করছি। বারবার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। দাবি উপস্থাপন এবং আলোচনার সব উপায় আমরা অবলম্বন করেছি। এতকিছুর পরেও গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে আমাদের অমীমাংসিত দাবিগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের আন্তরিকতা নেই।
তাদের অমীমাংসিত দাবির বিষয়ে জানিয়ে বলেন, গণরুম বিলুপ্তির দাবি পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাওয়া হয়েছে, নতুন হল মূল ক্যাম্পাসেই নির্মাণ করা হবে এরূপ কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। আর্থিক সাহায্য কয়জনকে, কত টাকা করে এবং কবে থেকে সবাইকে দেওয়া হবে— কোনও সংখ্যা জানানো হয়নি। ব্যক্তি প্রধান সম্পর্কিত আপডেটের কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। শতভাগ আবাসিকীকরণের কোনও সদিচ্ছা ব্যক্ত করা হয়নি। এক খাটে এক সিট ভিত্তিতে ডাবলিং প্রথা বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৭৩’ বাঁধা রয়েছে এমন অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝানোর হীনচেষ্ঠা আমরা দেখতে পেয়েছি। অথচ আমরা অধ্যাদেশে এমন কোনও বাঁধা দেখিনি? যদি তাই হয়, তাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন মিথ্যাচারের আশ্রয় কেনও নিলেন? এমন ঘটনায় আমরা ধরেই নিতে পারি প্রশাসন চায় না আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধান হোক।
ছাত্রীদের আবাসন সংকট সমাধানে আন্দোলন ব্যতীত অন্য কোনও পথ সামনে খোলা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমতাবস্থায় আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত উপাচার্য মহোদয়ের বাসভবনে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ১৪ জানুয়ারি সকাল ১০ টায় ‘ভিসির বাংলোয় ঠাঁই চাই’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনেই অবস্থান করবে।