ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসিভ বলেছেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা একের পর এক দীর্ঘদিন ধরে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা একটা সাধারণ মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক জীবন থেকে বঞ্চিত। সেগুলো নিয়ে কোনও কথা হয় না, অথচ আমরা দেখছি এই অন্তর্বর্তী সরকার ঢালাওভাবে শুধু গণভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য এবং নির্বাচনি সহিংসতায় শেরপুরে জামায়াত নেতার নিহত হওয়ার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি।
ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে বিভিন্ন ধরনের হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা চালায়, এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোকেয়া হলেই কিন্তু তারা একটা রেপের, একটা ধর্ষণের কারখানা বানিয়েছিল এই জামাতে ইসলামীসহ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।
তিনি বলেন, তাহলে আজকে যখন আমরা এই কথা বলছি, সেই চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির একজন প্রার্থী যখন জামাতের নারীদের উদ্দেশ করে এরকম লাঞ্ছনামূলক কথা বলছে, তখন আমরা বলতে চাই— আপনি যখন এগুলোর বিরুদ্ধে বলবেন, তখন সব ঘটনাকে অ্যাড্রেস করে বলবেন। সবগুলো নিপীড়ন, সব ধরনের নারী বিদ্বেষ এবং নারীর প্রতি হওয়া সব ধরনের আক্রমণের ঘটনকে অ্যাড্রেস করে বলবেন।
ইভান তাহসিভ বলেন, নিজেদের অতীতের যে ভুল এবং নিজেদের যে ভূমিকা এই দলেরই আরেকজন প্রধান নেতা যখন বলেন, বাংলাদেশে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না বা তার দল থেকে একজন নারী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে যে তারা সব মানুষের, সব লিঙ্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে?
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেন ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম মারুফ। তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণার মধ্য দিয়ে আমরা দেখছি নানা ধরনের সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক কথা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা যারা করছে তারা সঠিক রাজনীতি করছে না। বরং একটা অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জকসু নির্বাচনে মাওলানা ভাসানী ব্রিগেড নামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্যানেলের অন্যান্য প্রার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।