ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাংশ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
একই সঙ্গে ‘যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাংশ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন একাংশের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা এবং সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার ভেতর দিয়ে এই সংসদ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করলো। আমরা লক্ষ্য করলাম মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন না করে সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হলো। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে জনগণের ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার সম্মতি দিলো, যা জনগণের সঙ্গে একপ্রকার প্রতারণা।”
তিনি ল্বলেন, “এর মধ্য দিয়ে বিএনপি মূলত তাদের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গী করে চলার যে পুরানো নীতি, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালো। আমরা দণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মুক্তিযুদ্ধ এই জাতির, এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে গৌরবান্বিত অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধকে হেয় প্রতিপন্ন করা হলে জনগণই তার সমুচিত জবাব দেবে।”
এদিন ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের নাম শোক প্রস্তাবে যুক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, “আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোক প্রস্তাব গ্রহণকালে সরকারদলীয় চিফ হুইপ গণহত্যার সহযোগী স্বীকৃত রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের কথা বলেন। পরবর্তীতে আমরা হতবাক হয়ে দেখলাম সংসদের স্পীকার কর্তৃক তা গৃহীত হয়।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম থেকে উদ্ভূত গণচেতনাকে পদদলিত করার এক কলঙ্কময় নজির স্থাপিত হলো আজ। দেশের আপামর ছাত্রসমাজ ধিক্কার জানায় এই ঘটনার। ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গত ৫৪ বছরে এই ভূখণ্ডে সংঘটিত গণআন্দোলনের চেতনাকে করা হয়েছে পদদলিত আর বিপরীতে মঞ্চায়িত হয়েছে গণশত্রুকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার নাটক। মাঝখানে বারংবারই প্রতারণার শিকার হয়েছে জনগণ।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে প্রত্যাশা ছিল এই নাটকের অবসান ঘটবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যার সহযোগী সংগঠন জামায়াতকে পুনর্বাসনের মধ্য দিয়েই ইতোমধ্যেই জনগণের আওয়ামী সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ের নৈতিক ভিত্তি ধ্বসিয়ে দিয়েছে।
“সর্বশেষ আজকের ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদও এই আভাস দিলো —আমরা গণরায়-গণআকাঙ্খা মানতে রাজি নই। যা আগামী দিনের জন্য অশনিসংকেত।”
অনতিবিলম্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাব থেকে রাজাকরদের নাম ‘এক্সপাঞ্জ’ দাবি জানিয়েছেন তারা।