মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিদের বড় ধরনের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান ২০২৫-২৬ মেয়াদের ডাকসু কেন্দ্রীয় কমিটির ২৮ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন প্রতিনিধি সরাসরি শ্রদ্ধা নিবেদনে অংশ নিয়েছেন।
ডাকসুর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ডাকসুর পক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার। তবে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ২৫ জন সদস্যকেই সেখানে দেখা যায়নি।
ঈদের ছুটি ও যানজট
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, অধিকাংশ সদস্য ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকার বাইরে থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি বলেন, “ভিপি সাদিক কায়েম বর্তমানে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।”
তিনি নিজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেও রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে যেতে পারেননি বলে জানান এস এম ফরহাদ। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে তাকে। যানজটের কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ওই এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব (অষ্টমী স্নান) পালিত হওয়ায় রাস্তা বন্ধ ছিল। তার ভাষ্যমতে, “আমি এটা ভেরিফাই করিনি যে— ওই প্রোগ্রাম ছিল কিনা, কিন্তু পরে ফেসবুকে দেখলাম ঐ ধরনের ধর্মীয় একটা প্রোগ্রাম চলছিল ঐ এলাকায়।”
যানজটের কারণে তিনি স্বাধীনতা দিবসের আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম মিস করেছেন বলেও দাবি করেন, যার মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের র্যালিও ছিল।
ঘোষিত কর্মসূচি
স্মৃতিসৌধে সশরীরে উপস্থিতি কম হলেও ডাকসু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ ফটো কার্ড প্রকাশ করেছে। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ‘জাতীয় বারোয়ারি বিতর্ক প্রতিযোগিতা’ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো বেশ কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থীদের সংগীত ও আবৃত্তিসহ সৃজনশীল অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে, যার নিবন্ধন চলবে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
আয়োজকদের দাবি, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলা এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।