রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় সংগঠনের দাবি, সংঘর্ষে তাদের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথম দফা এবং পরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে দ্বিতীয় দফায় এই সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের কর্মীদের ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
পরে দুপুর ২টার দিকে আহতদের দেখতে ও খোঁজ নিতে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে জড়ো হন। একই সময় হাসপাতালের মূল ফটকের বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে আশ্রয় নেন। দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্রও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
জবি শিবির-সমর্থিত ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ইউজিসির চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হই। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেন। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়, প্ল্যাকার্ড ছিনিয়ে নেয় এবং মারধর করে। এতে আমাদের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “জকসুর ব্যর্থতা এবং সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম আড়াল করতেই তারা এসব করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা ধারাবাহিকভাবে মব কালচারের চর্চা করছে।”
ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাই উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি, জুলাইবিরোধী কোনও শক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের কোনও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।”
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও স্লোগান দিচ্ছিলেন। অপরদিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়।