জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনী কর্মসূচিকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জবি শাখা ও জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের কাছে এসব সংগঠনের প্রতিনিধিদল পৃথক স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
জকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে নয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রক্টরের পদত্যাগ ও শাস্তি নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ ও তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালে আহতদের খোঁজ না নেওয়ার দায়ে সংশ্লিষ্টদের অপসারণ এবং অছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা।
জবি ছাত্রশক্তির দেওয়া স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—হামলাকারীদের বিচার ও বহিষ্কার, ৭ একরে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন, অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এছাড়া ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রাখতে সব সংগঠনকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে জবি ছাত্রদল। এতে উল্লেখ করা হয়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা কর্মসূচি থেকে বিরত থেকেছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ কর্মসূচি পালন করলে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এসব স্মারকলিপি গ্রহণকালে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, দায়িত্বশীলতা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নতুন বাস্তবতায় পারস্পরিক সংঘাত নয়, বরং সংলাপ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চা প্রয়োজন। সংঘাত কখনও শান্তি বয়ে আনে না; বরং তা বিভাজন ও অস্থিতিশীলতার সুযোগ সৃষ্টি করে।’’
উপাচার্য জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রসংগঠন ও অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করছেন তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কমিটি শিগগিরই প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
স্মারকলিপির মাধ্যমে জকসু, ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত ঘটনার বিষয়ে নিজেদের মতামত, পর্যবেক্ষণ ও দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিভিন্ন দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন বলে জানা যায়।