মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা খর্বের চেষ্টা এবং কথা বলার কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

রবিবার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সামিনা লুৎফা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা খর্বের পরিকল্পিত চেষ্টা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের পারস্পরিক আস্থা নষ্ট করছে। ভিন্নমত প্রকাশ বা কথা বলার কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে এ প্রতিবাদ করেছেন তিনি।

সামিনা লুৎফা আরও জানান, সেদিন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি নির্ধারণ করেছেন তিনি। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে, কী করা যাবে না এবং মতবিরোধ তৈরি হলে তা কীভাবে নিরসন করা হবে, সে বিষয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

এরপর মুখে কালো কাপড় বেঁধে পাঁচ মিনিট নীরবে বসে থাকেন এই অধ্যাপক। নিজের পোস্টের শেষে তিনি সবার প্রতি ‘রিক্লেইম ক্লাসরুম’ বা শ্রেণিকক্ষের অধিকার ফিরে পাওয়ার আহ্বান জানান।

গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীর সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের আলোচনা ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর জরুরি সভা ডেকে ওই শিক্ষককে সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় ইংরেজি বিভাগ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ফেসবুক লাইভে এসে তাসনিম সিরাজ দাবি করেন, তিনি কোনও শিক্ষার্থীর ধর্মীয় পোশাকের অবমাননা করেননি। বরং মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ঢাকা থাকায় পরিচয় শনাক্তকরণ ও স্বাভাবিক পাঠদানে অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন।

অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষের আলোচনা গোপনে রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে ইতিমধ্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’। এরই ধারাবাহিকতায় এবার শ্রেণিকক্ষে নীরব প্রতিবাদ জানালেন অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।