কলাবাগানে জোড়া খুন

মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে তদন্তে অগ্রগতি




জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয়দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে পুলিশের ছিনিয়ে রাখা ব্যাগে পাওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যার তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এরইমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন গোয়েন্দারা (ডিবি)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এরইমধ্যে ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে।
গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর কলাবাগানে বাসায় ঢুকে ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান (৩৫) ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জুলহাজ সমকামীদের অধিকার বিষয়ক দেশের একমাত্র সাময়িকী ‘রূপবান’- এর সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর তনয় লোকনাট্য দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনার পর কলাবাগান থানায় জুলহাজের বড়ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এরইমধ্যে ৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আমরা ঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। আরও কয়েকদিন পর সবকিছু জানাতে পারবো।’
দুর্বৃত্তরা দুজনকে হত্যার পর লেকসার্কাস রোডের ডলফিন গলি দিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও গুলি বিনিময় হয়। এ সময় এক দুর্বৃত্তের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে রাখতে সক্ষম হয় পুলিশ। ওই ব্যাগে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি মোবাইল ফোন, আরবি লেখা কাগজ, একটি গামছা ও লুঙ্গি পাওয়া যায়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোবাইলের কললিস্ট ধরে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কথোপকথন, টাওয়ারের লোকেশন ও তা ঢাকার বাইরে থেকে প্রবেশ করেছে কিনা- এসব বিষয় যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মূল চক্রটিকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

অপরদিকে কলাবাগান থেকে সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজ আজিজ সুপার মার্কেট ও শাহবাগের পহেলা বৈশাখ ও বইমেলার ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে কিনা, ওই অপরাধীদের চেহারার সঙ্গে এদের মিল আছে কিনা, এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের দিন রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা পুলিশ এবং কাউন্টার টেরিরিজমের অন্তত পাঁচটি টিম খুনিদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি মেসেও অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, খুনিরা রাজধানীর আদাবরের একটি বাসায় থাকতো, এমন একটি ঠিকানা পেয়েছেন তারা। প্রায় দুই মাস আগে ৬-৭ জন তরুণ বাসাটি মেস হিসেবে ভাড়া নেয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর ওই তরুণরা আর বাসায় ফিরে যায়নি। গোয়েন্দারা ওই বাসায়ও তল্লাশি চালিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ব্লগারসহ যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বেশ কয়েকটির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করেছি আমরা। কয়েকজনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। বাকিদের অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার করা হবে।

/এআরআর/এজে/