সজল জানান, আজ সরকারি ছুটি, সব বন্ধ- তিনি জানেন। কিন্তু রিকশা না চালালে যে তার না খেয়ে থাকতে হবে। বাড়িতে থাকা পরিবারকেও টাকা পাঠাতে পারবেন না। প্রতিদিন যা আয় করেন তার বড় অংশ জমা করে তিনি প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে পাঠান। তাই একটি দিনও তার বসে থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিবাদ, আন্দোলন করে কোনও লাভ নেই। কেউ ভাত দেবে না। কাজ করেই খেতে হবে।’
সজলের মতো শ্রমজীবী লোকজন একদিন কাজ না করলে তাদের স্ত্রী-সন্তানের খাবার জুটবে না। তাদের কাছে মে দিবস বিশেষ কিছু নয়, অন্যান্য দিনের মতোই। তাই ঘরে শুয়ে-বসে বা অধিকার আদায়ের জন্য স্লোগান বা আন্দোলন করার কোনও সময় নেই তাদের। রাজধানীর খেটে খাওয়া মানুষগুলোর কেউ ঘরে বসে নেই। জীবিকার সন্ধানে তারা রাস্তায় নেমে পড়েছেন।
অনেকেই জানেন না আজ এত কিসের আয়োজন। তাদের কাছে মে দিবসের আলাদা কোনও বিশেষত্ব নেই। তারা জানেন কাজ না করলে তাদের পেটে ভাত জুটবে না। আবার অনেক শ্রমিক জানেন আজ সরকারি বন্ধ। তারা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য দিনটি বিশ্রামের।
মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রিকশাচালক, বাসচালক, ভ্যানচালক, দোকান শ্রমিক, মিল শ্রমিক, ওয়ার্কসপ শ্রমিক, বালু শ্রমিক, কাঠ ও রাজমিস্ত্রি যে যার কাজ করছেন। অন্যের বোঝা বয়ে নেওয়ার জন্য টার্মিনালগুলোতে অপেক্ষা করছেন শ্রমিকরা।
সরকারি ছুটির কারণে রাজধানীতে আজ যানজট প্রায় নেই। তবে গণপরিবহনের চলাচল স্বাভাবিক। মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলাচল করা এফটিসিএল পরিবহনের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন রাজীব (১৬)। বাবা-মায়ের সঙ্গে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন। আজ সকাল থেকেই গাড়িতে আছেন।
রাজীব বলেন, ‘কাজ না করলে ভাই সারাদিন কী করবো? আমার আড্ডাবাজি ভালো লাগে না। ওস্তাদে ফোন দিছে তাই চলে আসছি। দুইটা টাকা আয় হলে ভালো থাকবো। প্রেসক্লাবের সামনে দেখে আসছি অনেকেই মিছিল করছে। আমার এসব ভালো লাগে না।’
পুরান ঢাকার ধোলাইপাড়ের ওয়ার্কসপ ও গ্যারেজে অন্যান্য দিনের মতো আজও শ্রমিকরা কাজ করছেন। এদের মধ্যে শিশু শ্রমিকও রয়েছেন। এসব গ্যারেজের মালিক ও শ্রমিকদের কাছে মে দিবস বিশেষ কিছু নয়।
পূর্ব-রাজাবাজার মসজিদের পাশের একটি বহুতল ভবনে রংয়ের কাজ করছেন এমদাদ (২৯)। তাকে আরও তিনজন সহায়তা করছেন। পালাক্রমে ভবনটির গায়ে পরম যত্নে রঙ মেখে দিচ্ছেন তারা। আজ সকাল ৭টা থেকেই তারা কাজ শুরু করেছেন। মে দিবসের বিষয়ে তাদের কোনও ধারণাই নাই। তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর কেবল হাসলেন। তবে সে হাসি তাচ্ছিল্যের। অধিকার বঞ্চিত মানুষদের এমন হাসিতে রাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার চিত্রই ফুটে উঠে।
গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর ট্রেন স্টেশনগুলোয় ছিল শ্রমিকদের ভিড়। তবে আজ যাত্রী কম। তাই বোঝাও কম। সদরঘাটে বুড়িগঙ্গায় নৌকায় পারাপারে মাঝিরাও রয়েছে সরব। শ্রমিকরা ছোট ছোট ট্রলার ও নৌকা থেকে বস্তা টেনে তুলছেন লঞ্চে।
রাজধানীর অনেক মার্কেট খোলা রয়েছে। দোকান শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো কাজ করছেন। অপরদিকে, আজ দেশের গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে অনলাইন নিউজপোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিওতে সকাল থেকে কাজ চলছে।
/এআরআর/এসটি/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-