জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান তার ফেসবুক পেজে মে দিবস নিয়ে লিখেছেন, মে দিবস হোক শ্রমিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করার দিন। এই নেতা দু’বছর আগে মে দিবসে দেওয়া স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘শ্রমিকরা শুধু ইটের পর ইট সাজিয়ে ইমারত নির্মাণ করেন না, সুতায় সুতায় বুননে শুধু কাপড় তৈরি করেন না, শ্রমিকরা সভ্যতা নির্মান করেন। মে দিবস অমর হোক। সবাইকে মে দিবসের শুভেচ্ছা।’
সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান খোকন লিখেছেন, ‘শ্রমিক দিবসের প্রেরণা থেকে বাংলাদেশ মোটেও পিছিয়ে নেই। এ দেশে নারায়ণগঞ্জে প্রথম মে দিবস পালিত হয় ১৯৩৮ সালে। তখন ব্রিটিশ শাসনামল। তারপর পাকিস্তান আমলেও মে দিবস যথাযথ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন থেকে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে মে দিবস পালিত হয়। ওই বছর সদ্য স্বাধীন দেশে পয়লা মে সরকারি ছুটি ঘোষিত হয়।’
বেনজীন খান নামে একজন তার পেজে ‘বিবর্ণ আজকের মে দিবস’ শিরোনামে লিখেছেন, ‘মে দিবস। দুনিয়াব্যাপী উৎপাদক শ্রেণি রক্ত, কান্না, যন্ত্রণা ও জীবনের বিনিময়ে এ দিনে সে অর্জন করে পশু-জীবন থেকে মনুষ্যজীবন। কিন্তু দুর্ভাগা শ্রমিক শ্রেণি ধরে রাখতে পারেনি নিজেদের অর্জন। পুনরায় তারা ফিরে গেছে পশুজীবনে। সে যাযাবর, দাসই রয়ে গেছে মননে! সে নীচু রয়ে গেছে কর্মে তো বটেই, মানসিকতাতেও! এদিনের আজকের উৎসব তাই ১৮৮৬ সালে জীবন দানকারীদের সঙ্গে রসিকতা ছাড়া কিছুই না! হায় দুর্ভাগা শ্রমিক শ্রেণি...জাত গোখরো বিষ হারিয়ে তুমি এখন বনেছো ধোড়া!
আবদুর রহমান লিখেছেন, ‘সেই দিন মে দিবস হবে সফল, যে দিন একজন শ্রমিক হাসিমুখে বলবেন, আমি গর্বিত, আমি শ্রমিক। যে শ্রমিকরা Made in Bangladesh-কে সারাবিশ্বে গর্বিত করেছে আমরাই তাদের অবহেলার চোখে দেখি। আজও শ্রমিকরা সময় মতো বেতন পান না। আর যখন বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামেন, তখন তাদের ওপর গুলি আর লাঠিচার্জ করা হয়। আজও হাজারো শ্রমিকের চুলায় চালহীন পানি ফোটে। আমি সেই দিনের অপেক্ষায়, যেদিন একজন শ্রমিক হাসিমুখে বলবেন, আমি গর্বিত আমি শ্রমিক।’
আরও পড়তে পারেন: মে দিবস কী, জানেন না শ্রমিক নেতারাও
রেডিও টু-ফান নামের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘আমাদের দেশে মে ডে যেন শুধু বিজ্ঞাপন আর অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮, ওভারটাইম পেমেন্ট, নিয়মবহির্ভূত ছাঁটাই, সাপ্তাহিক ছুটি এসব নিয়ম এখনও অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মেনে চলে না। মে ডে শুধু শ্রমিক নয় সব পেশাজীবী মানুষের।’
এম রাকিব হাসান তার পেজে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বরত ছবি আপলোড করে দিয়ে লিখেছেন, ‘আজকে ছুটির দিন, মে ডে। গতকাল আর পরশুও ছুটি গেল। যদিও গরমটা একটু বেশি তবু সুযোগ যেহেতু আছে পরিবার পরিজন নিয়ে কোথাও থেকে ঘুরে আসতে পারেন। চিন্তা করবেন না, রাস্তার মোড়ে মোড়ে আপনাদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দাঁড়িয়ে আছে কিছু জিনিস, যারা মানুষ বা শ্রমিক কোনও দলেই নেই, তাদের মে ডে বা ঈদ ডে নেই, রোদ আর বৃষ্টি নেই, নেই ঠাণ্ড-গরমের অনুভূতি।’
গোলাম রামজি লিখেছেন, ‘বেকারের আবার কিসের মে ডে!’
সাগর ইসলাম জুনিয়র লিখেছেন, ‘ডে বলে কিছু নাই রে পাগলা, সবই পুঁজিবাদী সমাজের সাণ্ডনা দেওয়ার ধান্ধা।’
মুশফিক জিতু নামে অন্য একজনও একই ধরনের কথা লিখেছেন। তিনি লিখেন, ‘ডে বলে কিছু নেই, সব মিডিয়ার সৃষ্টি, পুঁজিবাদী শ্রেণির কারসাজি, আর অমুক তমুক সংগঠনের ধান্দাবাজি। হ্যাঁ আজও আমি টিউশনে যাচ্ছি, যেতে হচ্ছে!’
শান্তনু সরকার লিখেছেন, ‘বর্তমান সময়ে মে দিবস শুধু ফেসবুকের স্ট্যাটাস আর প্রধানমন্ত্রীর বাণী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এই দিনের যথাযথ মূল্য কেউ উপলব্ধি করেন বলে আমার মনে হয় না। যদি শ্রমিকদের কথা কেউ চিন্তাই করতেন, তাহলে তাদের অবস্থা এমন থাকত না। আমরা কবে যে শ্রমিকদের মূল্য বোঝতে পারব।’
রিয়াদ হোসাইন লিখেছেন, ‘ঐতিহাসিক মে ডে অথবা শ্রমিক দিবস। আজকের দিনের প্রতিবাদ্য বিষয় হোক শ্রমিকেরর ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা।
সাইফ সাইফ নামে ফেজবুক পেজে লেখা হয়েছে, ‘ভাবছিলাম মে ডে নিয়া post দেব পরে ভাবলাম মে ডে, মে ডে করে কী হবে? আমরা এখনও দৈনিক শ্রমিক নিয়ে দামাদামি করি। আমরা টিপস দেই, 5star খাওয়ার পর। সাধারণ মানের হোটেলের waiter দের টিপস দেই না। রিকশাই উঠি হাজার দরদাম করে। but মে ডে, মে ডে বলে গলা ফাটাই। তাই মে ডে আমার কাছে funny মনে হয়।’
আরও পড়তে পারেন: মে দিবস কী, জানেন না শ্রমিক নেতারাও
অন্য একটি পেজে লেখা হয়েছে, ‘তাদের কাছে মে দিবস আছে। কিন্তু কোনও আনন্দের দিবস নেই। এই মে ডে এর উসিলাতে একটি বিশেষ শ্রেণি সুবিধা গ্রহণ করছে। মেহনতিরা মেহনত করেই যাচ্ছে। তাদের কোনও ক্লান্তি নেই। তারা শুধু এইটুকু জানে—ঘাম ঝড়ালেই পেট জুড়াবে।
সাঈফ ইবনে রফিক লিখেছেন, ‘ঘাম শুকানোর আগে মজুরি পরিশোধের যে বাধ্যবাধকতা, তা এড়াইতে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অফিসে এসি লাগায়। শ্রমিক যেহেতু ঘামে না, ন্যায্য মজুরি পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও নাই। খোরপোষ দিয়েই শ্রমিককে ঠাণ্ডা রাখা যায়।’
/এমএনএইচ/