মজিবুর রহমান ফকিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমানময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমান ফকিরের মৃত্যুতে সোমবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর তার সম্মানে সংসদে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে মোনাজাত করেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। চলতি সংসদের কোনও সদস্য মারা গেলে পরবর্তী অধিবেশনে শোক প্রস্তাবে আলোচনা করে অধিবেশন মুলতবির রেওয়াজ রয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মজিবুর রহমানকে স্মরণে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ফকির বেঁচে থাকলে যতবার মনোনয়ন পেতেন ততবারই নির্বাচিত হতেন। তিনি যেভাবে মানুষের সেবা করেন, মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং কাজ করেন, তাতে তাকে নির্বাচনে হারাবার মতো কোনও শক্তি ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মজিবুর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার ছিলেন। তার নার্সিং হোমে যদি কোনও গরিব রোগী যেতেন, তাহলে তিনি অনেক সময় বিনা পয়সায় বা অর্ধেক খরচে চিকিৎসা করে দিতেন। গৌরীপুর থেকে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। মাটি ও মানুষের সঙ্গে একাত্মা হয়ে তিনি কাজ করতেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাকে যখন আমি স্বাস্থ্য সেবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলাম, বিশেষ করে আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগটা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছিলেন। স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের যে অর্জন, সেটা অনেক উন্নত দেশও করতে পারেনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংসদ নেতা বলেন, এই সংসদে আমরা একত্রে কাজ করেছি, অনেক ঘাত প্রতিঘাত আমাদেরকে অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক বাধা বিপত্তি আমাদেরকে মোকাবেলা করতে হয়েছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে যে গুণগুলো থাকা দরকার, সেগুলো তার মধ্যে ছিল। অত্যন্ত সততার সঙ্গে তিনি তার দায়িত্বগুলো পালন করেছেন। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, কখনো কেউ তার বিরুদ্ধে একটি কথা বলতে পারেননি।

রবিবার ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, উনি সারাদিন সম্মেলনে সম্পৃক্ত ছিলেন, কাজ করেছেন। সম্মেলন শেষে এলাকায় গিয়েও তিনি ঘুরেছেন। নিজের শরীরের প্রতি যে খুব একটা যত্ন নিতেন, তা না। যখন তিনি অসুস্থ হয়েছেন, তখন তাকে ডাক্তার দেখাতে চাইলে প্রথমে তিনি যেতেই রাজি হননি। তারপর যখন এক পর্যায়ে এলেন তখন সব শেষ হয়ে গেলো। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য, তিনি আমাদের মাঝে নেই, এটা দেশের জন্য জাতির জন্য ক্ষতি। আমরা একজন দেশ সেবককে হারিয়েছি, জনসেবককে হারিয়েছি।

তিনি বলেন, মৃত্যু অবধারিত, সকলকে একদিন চলে যেতে হবে। কিন্তু মানুষের জন্য কতটুকু রেখে যেতে পারলাম, সেটাই কিন্তু বড় কথা। আমি মনে করি, তিনি গৌরীপুরবাসী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পুরো বাংলাদেশের জন্য অনেক অবদান রেখে গেছেন, যা চিরদিন মানুষ স্মরণ রাখবে।

শোক প্রস্তাবে অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম এবং ময়মনসিংহ-৯ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান।

/ইএইচএস/এএইচ/

 

আরও খবর পড়ুন-

‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা’