নির্বাচনি সহিংসতা

সরকারি দলের মধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটেছে: সুজন

সুজনচলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বিবদমান গ্রুপের মধ্যে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।  সংস্থাটির মতে, হতাহতের ঘটনাও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই বেশি ঘটেছে। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ৭১ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ২৯ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্মী। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সংঘটিত ৮টি সংর্ঘষের ঘটনার মধ্যে ২১টিই আওয়ামী লীগ ও দলটির বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুজন এমন তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থাটির সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সম্পাদক ড. বদউল আলম মজুমদার ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুহম্মদ জাহাঙ্গীর। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজন সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।
হতাহতের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে দিলিপ কুমার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে ১৬ জন করে, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ জন ও রংপুর বিভাগে একজনের প্রাণহানি হয়েছে।

মনোয়নবাণিজের মাধ্যমে এবারের ইউপি নির্বাচনকে কলুষিত করা হয়ে দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় রাজনৈতিক দল বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত এমনকি জেএমবি সদস্যকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গোয়লকান্দি ইউনিয়নে জেএমবি সদস্য বাংলা ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুস সালামকে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মতো বিএনপির বিরুদ্ধেও মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আছে।

আরও পড়তে পারেন: নিজামীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

নির্বাচনে কঠোর হতে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও গাজীপুরের এসপিকে পুনর্বহালের প্রসঙ্গ টেনে সংবাদ সম্মেলনে ব্ক্তারা বলেন, এক দিকে নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হওয়ার আহ্‌বান ও অন্যদিকে কমিশনের আদেশকে উপেক্ষা যেমনি চরম বৈপরিত্যমূলক, তেমনি কমিশনের জন্য চরম অবমানকরও।

সংবাদ সম্মেলনে এম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে ট্রেন সেট আপ করা হয়েছে, ইউপি নির্বাচন তারই ধারাবাহিকতায় চলছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ধ্বংস হবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এবারের নির্বাচনে যে অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে, সেটা ভবিষ্যত নির্বাচনের জন্য একটি অশনিসংকেত।

আরও পড়তে পারেন: চূড়ান্ত বিচারে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, এই নির্বাচনে যে ভুল ও বিকৃত মডেল আমরা প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছি, তাতে আমরা ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। এই মডেলে ওই নির্বাচন হলে দেশের ভবিষ্যত অন্ধকার। আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় ভিত্তিতে হওয়া উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর।

/ইএইচএস/এমএনএইচ/