তিনি লিখেছেন, গত বছর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় তা ৪৪ শতাংশ বেশি। বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থলগ্নি করার জন্য বাংলাদেশকে অত্যন্ত উপযোগী স্থান বিবেচনা করছেন। ২ মে লেখাটি প্রকাশিত হয়। ৫ মে জয় তার ফেসবুক পেজে এই নিবন্ধের লিংক শেয়ার করেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের মার্চের এক জরিপের বরাত দিয়ে জয় লিখেছেন, ৮৩ শতাংশ বাংলাদেশি মনে করেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ ভালো। ৭৭ শতাংশ মনে করেন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল।৭২ শতাংশ তাদের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে আশাবাদী।
তিনি লিখেছেন, গত বছর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প, তেল ও গ্যাস, ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। প্রতিবেশি অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ উদারনীতি গ্রহণ করায় বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি উল্লেখ করে জয় লিখেছেন,এর ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। গত ৯ মাসে প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জয় লিখেছেন,এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংকের অনুমান, ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়াবে ৩২ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।
গার্মেন্ট শিল্প যে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তা অনেকেই জানেন। তবে এই খাত যে কতটা গতিশীল তা তারা জানেন না। বাংলাদেশ শুধু টি-শার্টই তৈরি করে না, এদেশের পণ্য ইউরোপের অনেক নামিদামী দোকানে বিক্রি হচ্ছে। গার্মেন্ট খাতের কারণে বাংলাদেশের জনমিতিক অনেক পরিবর্তন হয়েছে, জেন্ডার সমতা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জিত হয়েছে। এ বছর গার্মেন্ট পণ্য রফতানি আয় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছে যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেছে বলেও লিখেছেন জয়। ২৫ বছর আগে বাংলাদেশিদের গড় আয়ু ছিল ৫৬ বছর। এখন তা ৭০ বছরের বেশি। এশিয়া ফাউন্ডেশনের মতে,এটা আধুনিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু অন্তত চার বছর বেশি বলেও জানান তিনি।
২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গরিব মানুষের সংখ্যা ছয় কোটি ৩০ লাখ থেকে চার কোটি ৭০ লাখে নেমে এসেছে। দেশে এখন দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ যা এক দশক আগেও ছিল ৪০ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশে পারিশ্রমিক বেড়েছে ও জন্মহার কমেছে। ফলে নির্ভরশীলতা কমেছে ও মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়ন অর্জিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পের এটা কেবল শুরু বলেও লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
/এফএস/এজে
আপ: এএইচ
http://www.diplomaticourier.com/bangladeshs-hidden-story-booming-economy/
আরও খবর পড়ুন-