তারা আমাদের স্বজন, আমাদের লোক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপার্বত্য শান্তি চুক্তির পুরোপুরি বাস্তবায়নে সব পক্ষকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে সব পক্ষকে কাজ করতে হবে। তারা আমাদের স্বজন, আমাদের লোক। তাদের দেখাশোনা তো আমাদেরই করতে হবে।’
রবিবার সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের ভিত্তি ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন দুই একরের নির্ধারিত স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
পার্বত্য অঞ্চলে একসময় সংঘাত ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সংঘাত বন্ধে শান্তি চুক্তি করেছে। বিএনপি সেই চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। তারা হরতাল ডেকেছিল। যদিও শান্তি চুক্তি এতো সহজ ছিলো না। পাহাড়ি অঞ্চলে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতি নেই। শান্তি চুক্তির অধিকাংশ ধারা আমরা বাস্তবায়ন করেছি।’
সরকার পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করতে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ইতোমধ্যে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সে অঞ্চলে সংঘাত বন্ধ করেছি। নানা অবকাঠামো উন্নয়ন করেছি। আর যেটুক বাকি আছি, আমরা সব করে দেবো।’

আরও পড়ুন: পাকিস্তানকে নাক না গলানোর আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রতি পর্যটকরা যেন আরও বেশি আকৃষ্ট হন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আমরা নজর দিয়েছি। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা রাস্তা করে দিয়েছি, চাষাবাদের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ব্রিজ করেছি। একহাজার কিলোমিটার রাস্তা করেছি, বিদ্যুৎ দিয়েছি। ৮৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি প্রত্যকে ঘরের বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য। কারিগরি প্রতিষ্ঠান করে দিয়েছি, যেন ছেলেমেয়েরা শিক্ষা নিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে যখন অস্ত্র সমর্পণের আয়োজন করা হয়, তখন বিএনপি হরতাল ডাকে। তারা বলেছিল অস্ত্র সমর্পণ করা যাবে না। বিএনপি নেত্রী সে সময় বলেছিলেন, এই চুক্তি হলে নাকি ফেনী থেকে পুরো পার্বত্যাঞ্চল ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। দেশের ভেতর থেকেই এই চুক্তির বিরোধিতা হয়েছে। কেন হয়েছে তাও জানি না, তবু সেই চুক্তি হয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ফিরেছে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন: গণপূর্তমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে

পিএইচসি/এজে