নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কারাগারে জরুরি বৈঠক

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার

মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জরুরি বৈঠক করেছেন কারা কর্মকর্তারা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা,জেলাপ্রশাসন থেকে পাঠানো একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কারা কর্তৃপক্ষ তা জানতে চাইবে। এজন্য কারাকর্তৃপক্ষ এখন ম্যাজিস্ট্রেটের আসার অপেক্ষা করছে। কারাগার সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে প্রতিদিনের মত মঙ্গলবার সকাল থেকে কারা কর্মকর্তারা অফিস শুরু করেন। সকালেই অফিসে চলে আসেন জেলার নেসার আলম। কারাফটকেই তার বাসা। এর পর আসেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. ইকবাল কারাগারে আসেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বের হয়ে যান। তবে অন্য কর্মকর্তারা কারাগারেই রয়েছেন। কারাফটকে কয়েকজন কারারক্ষী এই তথ্য জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন- তিস্তা তিস্তা চুক্তি: কোনদিকে যাবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার

তারা জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসার কথা রয়েছে। তার উপস্থিতিতেই নিজামীর প্রাণভিক্ষার আবেদনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে। তিনি প্রাণ ভিক্ষা চাইলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্ত জানালে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কারাগার। এছাড়া যদি প্রাণভিক্ষা না চান তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি নেবে। উপযুক্ত সময়ে দণ্ড কার্যকর করা হবে। এর আগে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাবেন নিজামী।

 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকর করতে প্রস্তুত রয়েছে। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দণ্ড কার্যকর করা হবে।’

কারা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে,দণ্ড কার্যকরে তারা প্রস্তুত। যেকোনও সময় দণ্ড কার্যকর করা হবে।

এদিকে, কারাগারের প্রধান ফটকের সামনে র‌্যাব সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। অন্যান্য ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কারাগারের চারদিকের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গত ৫ মে (বৃহস্পতিবার) মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর সাজা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। গতকাল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এরপর রায়ের কপি ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, জেলাপ্রশাসক, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর নিজামীকে রায় পড়ে শোনান।

এআরআর/এপিএইচ/