গত বৃহস্পতিবার রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজের পর কাশিমপুর কারাগারে তার পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতেও নিজামী প্রাণভিক্ষা না চাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। তার পরিবারের বরাত দিয়ে আইনজীবী তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিনি বলেছেন, জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ। কারও কাছে তিনি প্রাণভিক্ষা চাইবেন না। পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ আর কোনও আনুষ্ঠানিকতা হবে কিনা সেটি কারাকর্তৃপক্ষ ঠিক করবেন।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, নিজামী প্রাণভিক্ষা চাননি। ফলে ফাঁসি কার্যকর এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, নিজামীর ফাঁসি কার্যকরে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ফাঁসি কার্যকরের জন্য যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেসব চলছে। এখন অপেক্ষা করুন, দেখতে পাবেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কাশিমপুর কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছেছে প্রধান জল্লাদ রাজুও। রাত ১০টার পর যে কোনও সময় ফাঁসি কার্যকর করা হবে। ইতোমধ্যে নিজামীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য চিকিৎসক আনা হয়েছে। বর্তমানে নিজামীকে কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধা সেলের ৮ নম্বর কক্ষে রাখা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে নাজিমুদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা যায়, কারাগারের চারপাশে র্যাব, পুলিশ ও কারারক্ষীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে কারাগার এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কারাগারের প্রধান ফটকে গণমাধ্যমকর্মীদের ভীড়ও বেড়েছে।
কারা সূত্রটি জানিয়েছে, দণ্ড কার্যকরের জন্য জল্লাদ রাজুর নেতৃত্বে হযরত, মাসুদ, ইকবাল, রনি, মোক্তার, আবুল ও সাত্তার নামে আট জল্লাদ প্রস্তুত রয়েছেন। এদের মধ্যে যেকোনও চারজনকে ডাকা হতে পারে।
গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী বিকেল ৫টা ৩ মিনিটে পূর্ণাঙ্গ রায় বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন। এরপর বাকি কার্যক্রম শেষ করে তা কারাগারসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার জেলা প্রশাসকের (ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট) কাছে পাঠানো হয়। এরপর সোমবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির (কনডেমড) সেলে থাকা নিজামীকে তা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এর আগে নিজামীকে গত রবিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখলে রিভিউ আপিল করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রিভিউ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়ায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
আরও পড়ুন: যেকোনও সময় নিজামীর ফাঁসি কার্যকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জেইউ/ইউআই/এআরআর/সিএ/এজে