সড়কের জন্য কবর স্থানান্তর!

কবর স্থানান্তর

সড়ক সংস্কারের সুবিধার্থে এবার কবরস্থান স্থানান্তর করা হলো। বিরল এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর উত্তরা মডেল টাউনের চার নম্বর সেক্টরের শাহজালাল অ্যাভিনিউয়ে। দীর্ঘদিন সড়কের ওপর থাকা কবরস্থান সরানোর এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ষাটের দশকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে উত্তরা মডেল টাউন নামে এই আবাসিক এলাকা নির্মাণ করে। এই আবাসিক এলাকার চার ও ছয় নম্বর সেক্টরের মাঝখান দিয়ে তৈরি করা শাহজালাল অ্যাভিনিউয়ের ওপর পড়ে সরকার পরিবারের ‘পারিবারিক কবরস্থান’। অধিগ্রহণের বাইরে থাকায় কবরস্থানটি সরানো যায়নি। এ কারণে অর্ধ শতাব্দি ধরে দশ কাঠা আয়তনের (১৬ শতাংশ) কবরস্থানটি যথাস্থানে থেকে যায়। পারিবারিক কবরস্থানটি পরিচালনা করে ‘আমিনউদ্দিন গং ওয়াকফ এস্টেট’।

কবর স্থানান্তর

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, কবরস্থানের কারণে শাহজালাল অ্যাভিনিউয়ের প্রশস্তকরণ, উন্নয়ন ও সংস্কার করা যাচ্ছিল না। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে এটাকে স্থানান্তর নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে সরকার পরিবারের লোকজন সম্মত হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার শ্রমিক লাগিয়ে কবরস্থান সরানোর কাজ শুরু হয়। এ কাজ শেষ হয় রবিবার (৮ মে)।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,  ১৭ বছর আগে সর্বশেষ এখানে লাশ দাফন করা হয়। এখানে কবর ছিল ২২টি। এগুলোর মধ্যে ১২টি কবর চার নম্বর সেক্টরে ৯ নম্বর সড়কের পাশে সিটি করপোরেশনের কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ১০টি কবর নেওয়া হয়েছে শাহজালাল অ্যাভিনিউর পাশে সরকার পরিবারের নতুন পারিবারিক কবরস্থানে। কবরস্থান স্থানান্তরের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত শাহজালাল অ্যাভিনিউর উন্নয়ন কাজ শেষ করতে পারবো।কবর স্থানান্তর

প্রসঙ্গত, রাজধানীর পল্লবীর কালশী রোডেও এক সময় একটা কবরস্থানের একাংশ পড়েছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর পাঁচ বছর আগে বেশ কিছু কবর সরিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হয়। এর সুফল পাচ্ছে নগরবাসী।

/ওএফ/এফএস/