২০০৮ সালে জাতির কাছে দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহারে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। অঙ্গীকারের পর এ অসাধ্য কাজটি সফল করা নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয়-সন্দেহ ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সালে ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথমে আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের ভেতর দিয়ে শেখ হাসিনা জাতির সেই সংশয়-সন্দেহ দূর করেন। পাশাপাশি অর্জন করেন জনগণের আস্থা-বিশ্বাস। এরপর ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল কামারুজ্জামান ও ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করে জাতির কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণে বহুদূর এগিয়ে যান শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা সম্ভব, তা আবার জাতিকে বিশ্বাস করাতে সমর্থ হন এই দৃঢ়চেতা নেতা ।
আরও পড়ুন: শীর্ষ চার ‘জামায়াত গুরুর’ বিদায়
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার দৃঢ় মনোভাব ও নেতৃত্বের ফলেই এই অসম্ভব কাজটি সম্পাদন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যে। কিন্তু শেখ হাসিনা কোনও ষড়যন্ত্রই আমলে নেননি। সফল হতে দেননি। তাই জাতি কলঙ্কমুক্ত হতে শুরু করেছে।
তবে এ অসাধ্য কাজটি সম্পাদন করতে গিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইস্যুতে দেশি-বিদেশি কারো সঙ্গে আপোষ করেননি তিনি। এজন্যে তার জীবনও হুমকির মুখে পড়েছে- প্রধানমন্ত্রী নিজেই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন আলোচনায় এ হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।বিচার ঠেকাতে এবং সরকারকে চাপে রাখতে আন্তর্জাতিক লবিস্টও নিয়োগ করেছে যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারের সদস্যরা। বিভিন্ন সময়ে তারা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে সরকারের উপর। বিশ্বমোড়লদের চোখ রাঙানি, পশ্চিমা প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রনায়কদের ফোন, মৃতুদণ্ড ঠেকাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার দৌঁড়ঝাপসহ দেশি-বিদেশি চাপ ও ষড়যন্ত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাই সামাল দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের এক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মন্ত্রী বলেন, অনেক চাপের মুখেও অনড় থেকে প্রধানমন্ত্রী এসব রায় বাস্তবায়নে অনড় রয়েছেন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ এমন অনেক চাপ মাথায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন, যা দল ও সরকারের অনেকেই জানেন না।
আরও পড়ুন: নিজামীর ফাঁসিতে পাকিস্তানের কান্না
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে সাধারণ জনগণের মতো আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন রায় কার্যকর হবে কিনা; কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার নীতিতে অটল থাকায় সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর করে সাকা চৌধুরীরও ফাঁসি হয়েছে ।
সরকারি সূত্র জানায়, গুপ্ত হত্যা, পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের মূলে শুধু ৫ জানুয়ারির নির্বাচনই একমাত্র ফ্যাক্টর নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও তাদের রায় বাস্তবায়নের ইস্যুটিও। কিন্তু বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন,শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় বাস্তবায়নে একেবারেই অনমনীয়। এমনকি মানবতাবিরোধীদের বাঁচাতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রের চেষ্টা-তদবিরও এক্ষেত্রে আমলে নেননি প্রধানমন্ত্রী। হানিফ বলেন, শক্তিধর একটি রাষ্ট্রের সরকার থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষ নিয়ে টেলিফোনও করা হয়েছে, কিন্তু শেখ হাসিনা সেই রাষ্ট্রের অনুরোধও রাখেননি।
এপিএইচ/