অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ফিন. ই. কিডল্যান্ড, কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. বিয়র্ন লুমবোর্গের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্র্যাক-এর গবেষকদের করা গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এ সময় নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ফিন.ই. কিডল্যান্ড, কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট ড. বিয়র্ন লুমবোর্গ, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মুসা ও গবেষণা পরিচালক আবদুল বায়েস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের জন্য যক্ষা রোগের চিকিৎসা,শিশু পুষ্টি ও ই-গভর্নমেন্টসহ মোট ৭২টি খাতে বরাদ্দের সুপারিশ সংবলিত একটি অগ্রাধিকার তালিকা প্রকাশ করেছেন ব্র্যাক ও কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টারের গবেষকরা।
তারা বলেছেন,এ তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট খাতে আগামী ৫ বছর ধরে কার্যকর কর্মসূচির দিকে করা বাজেটের ১ শতাংশ অর্থ যথার্থভাবে খরচ করতে পারলে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার অপেক্ষাকৃত সঙ্গতিসম্পন্ন করে তুলতে পারে। আর উন্নয়ন সংস্থাগুলোও অতিরিক্ত ৪শ’ কোটি ডলার অর্জন করতে পারে।তবে শর্ত হচ্ছে এই ১ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে শুধু বিশেষ কোনও খাতে। এসব খাতে বিনিয়োগ করলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতি দ্রুত সুফল পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন-
সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মুসা বলেন, দীর্ঘ একবছর ধরে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণা ফলাফল চূড়ান্ত করতে জনগণ, সরকার, এনজিও ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২৬টি গোল টেবিল বৈঠক করা হয়েছে।প্রতিটি বৈঠকে ১২ থেকে ২০ জন গবেষক অংশগ্রহণ করেন। তাদের করা গবেষণায় ৭৬টি নীতিমালার বিকল্প হিসেবে ১ হাজারটি সুপারিশের সারসংক্ষেপ করে ৭২টিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
মোহাম্মদ মুসা বলেন,বিষয়টি নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ফিন.ই.কিডল্যান্ড, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. কেএসএ মুরশিদ, ব্র্যাকের ভাইস-চেয়ারম্যান ড. মুশতাক চৌধুরী ও বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট সেলিমা আহমাদ বাংলাদেশের নীতিমালার বিকল্পের খরচ এবং সুবিধা সম্পর্কিত এক হাজারেরও বেশি নতুন সাক্ষ্যপ্রমাণ সম্বলিত তথ্যাদি পর্যবেক্ষণ করেছেন।এই গবেষণা কাজের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ছিলেন বাংলাদেশি। নতুন নীতিমালা সম্পর্কিত গবেষণার পুরো খণ্ড সরকারি ডোমেইনে স্থাপন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই গবেষণার ফল হস্তান্তর করা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে,বাংলাদেশকে পুরোপুরি ‘ই’ প্রকিউরমেন্টের আওতায় আনতে পারলে তা হবে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।এই খাতে ১৪৪ কোটি টাকা খরচ করলে বছরে ৫ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা সঞ্চয় হবে। প্রতি এক টাকায় ৬৬৩ টাকার সুফল বয়ে আনবে।
আরও পড়ুন:
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জমি রেজিস্ট্রেশন বা রেকর্ড ব্যবস্থায় এক টাকা ব্যয় করলে ৬১৯ টাকার অবিশ্বাস্য সুফল পাওয়া যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ফিন.ই. কিডল্যান্ড বলেন, বাংলাদেশকে জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বকে দিক নির্দেশনা দিতে দেখে আমি আনন্দিত। এটি এমন একটি কাঠামো, যা একমাত্র নীতিমালা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের উন্নতি সাধন করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনের আগে সকালে এই গবেষণার ওপর প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ফিন.ই. কিডল্যান্ড, কোপেনহেগেন কননেসাস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট বিয়ার্ন লুমবোর্গ, ব্র্যাকের গবেষণা পরিচালক আবদুল বায়েস উপস্থিত ছিলেন।
/এসআই/ এমএসএম /আপ-এপিএইচ/