ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যিনি ভিডিও করছেন তিনি গণমাধ্যমের কেউ না। ভিডিওতে প্রশ্ন করে করে কথাগুলো জানতে চাওয়ার সময় ভিডিও ধারণকারী প্রশ্ন করেন, এসব কথা তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল কিনা।
৫ মিনিট ৩৪ সেকেণ্ডের ভিডিওটিতে সেদিন স্যার কী বলেছিলেন, কথাটি একাধিকবার জিজ্ঞেস করা হয়। ছাত্ররা জানায়, উত্তম স্যারের ক্লাসে হঠাৎই প্রধান শিক্ষক ঢুকে মেয়েদের কর্ণারে চলে যান। তিনি রিফাতকে ডাকার পরও না শোনার কারণে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ৫/৬টা ঘুষি মারেন। এক সময় রিফাত আল্লাহকে ডাকলে হেডমাস্টার বলেন, তোগো আল্লাহও নাপাক তোরাও নাপাক।
এদিকে ফেসবুকে এই ভিডিও এবং বিবিসির করা একটি সংবাদ শেয়ার দিয়ে শ্যামল কান্তি ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেছেন কি করেননি তা নিয়ে প্রমাণ দেওয়া শুরু করেছে একটি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, কিছু সুশীল ঘটনাটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মূলধারার গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য উঠে আসছে না এবং প্রধান শিক্ষক ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন তার প্রমাণ তাদের কাছে আছে। সমাজ গবেষকরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মূল ঘটনা থেকে চোখ অন্য দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।
গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া আর কার কার সঙ্গে ভিডিওতে কথা বলেছে প্রশ্নে বুধবার রিফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলে, কত জনকেইতো আমি ঘটনা জানিয়েছি। আমার যা বলার সবাইকেই বলেছি। এখন আর এ বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলতে আমি আগ্রহী না।
সাংবাদিকদের বাইরে কেউ ছিল কিনা প্রশ্নে সে বলে, আমি কোনও কথা বলতে চাই না।
স্কুলের ইসলাম ধর্মের শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা বোরহান উদ্দিন যদিও আগেই দাবি করেছেন, প্রধান শিক্ষককে তিনি কোনওদিনই এ ধরনের মন্তব্য করতে শোনেনি। বরং ওই ছাত্রকে মারধরের পরে আমি সেই ছাত্রের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের কাছে ক্ষমা ও অনুতাপ জানিয়েছিলাম। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিষয়টি আগে ছিল না।
কটূক্তি করেছেন কি করেননি সে প্রশ্নে গণমাধ্যমকর্মী রওশন জে চৌধুরী বলেন, সেই শিক্ষক এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন নাকি দেননি সেটা বড় কথা নয়, কাউকে প্রশংসা করা বা নিন্দা করার অধিকার আমার আছে এই বোধ প্রতিষ্ঠা করা, এই অধিকার থাকা জরুরি।
শিক্ষকের কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনাকে হালকা করে দিতেই এ ধরনের ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনাকে টেনে আনা হচ্ছে উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, এই শিক্ষক ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করেছেন কী করেননি, সেটা এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কোনও বিষয় নয়। উনি কটূক্তি করে থাকলে সে বিষয়ে অভিযোগ হলে, নিশ্চয়ই আলাদা আইন আছে সেটি দেখার। এটির সঙ্গে কান ধরে উঠবস করানোর মত অন্যায় বৈধ করা যায় না এবং সেটি করছেন খোদ একজন সংসদ সদস্য যার আইন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকার কথা ছিল।
এজে/