প্রস্তাবটি সরকারের অনুমোদন পেলে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আওতাধীন এলাকার সকল উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এসব এলাকায় রাজউকের আর কোনও খবরদারি থাকবে না।
জানা গেছে, এ বছর ১৩ মার্চ পাস হওয়া কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০১৬-এর আদলে ‘গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন- ২০১৬’ নামে আইনের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এতে কর্তৃপক্ষের আয়তন, জনবল, কর্মপরিধি ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। ১০ এপ্রিল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ড্যাপ সংশোধন বিষয়ক এক সভায় বিষয়টি উত্থাপন হয়।
জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন বিষয়ক একটি খসড়া রাজউকে পাঠানো হয় মতামতের জন্য। রাজউক নেতিবাচক মতামত দিয়ে প্রস্তাবের ফাইলটি ফেরত পাঠিয়েছে। রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাজীপুর ও টঙ্গী এলাকা রাজউকের আওতাধীন। যেহেতু রাজউক এখানে কাজ করছে, সেহেতু নতুন কর্তৃপক্ষের দরকার কি?
যোগাযোগ করা হলে গাজীপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গাজীপুরে একটা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হলে ভালই হবে। তখন আরও পরিকল্পিতভাবে এলাকার উন্নয়ন করা যাবে। তিনি বলেন, আজ হোক, কাল হোক এটা করতেই হবে।
রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদ মো. এমদাদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ১৫২৮ বর্গকিলোমিটারের মতো বিশাল এলাকার দেখভাল করতে পারছে না রাজউক। এত জনবলও নেই প্রতিষ্ঠানটির। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ কিংবা গাজীপুরে সচরাচর কেউ যেতে চান না। তিনি বলেন, এ অবস্থায় রাজউক ভেঙে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের ধারণাটি খারাপ না। বরং নতুন কর্তৃপক্ষ হলে এটাকে জনবল দিয়ে সমৃদ্ধ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, গাজীপুরের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জেও এ ধরনের একটা নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। তাহলে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে গতিশীলতা আসবে। তবে নতুন কর্তৃপক্ষে রাজউকের প্রতিনিধি রাখা দরকার, যাতে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উন্নয়ন হচ্ছে কিনা সেটা দেখভাল করা যায়।
প্রসঙ্গত, বৃটিশ শাসনের অবসানের পর ঢাকায় পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্দেশ্যে ১৯৫৬ সালে ‘টাউন ইম্প্রুভমেন্ট অ্যাক্ট (টিআইএ)-১৯৫৩’ এর মাধ্যমে ‘ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট-ডিআইটি’ প্রতিষ্ঠা হয়। এই ডিআইটির মাধ্যমে ঢাকার ৮২০ বর্গকিলোমিটার (৩২০ বর্গমাইল) এলাকার জন্য প্রথম মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। এরপর ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ শহরকেও সংযুক্ত করা হয়।
প্রথম মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছিল ২০ বছরের জন্য। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার পর অপরিকল্পিতভাবে রাজধানী ঢাকার সম্প্রসারণ ঘটতে থাকে খুব দ্রুত।
ডিআইটির নাম পরিবর্তন করে ১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক’ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এরপর গাজীপুর পৌরসভা, সাভার পৌরসভা, কেরানীগঞ্জ উপজেলা, নারায়ণগঞ্জ বন্দরের কদমরসূল পৌরসভাসহ মেঘনা নদী পর্যন্ত বিশাল এলাকা নিয়ে ১৯৯৫ সালে ঢাকার দ্বিতীয় মাস্টারপ্ল্যান ডিএমডিপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান) প্রণয়ন করা হয়। ডিএমডিপির আয়তন দাঁড়ায় ১৫২৮ বর্গকিলোমিটার। এরপর রাজউকের মাধ্যমে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান বা ড্যাপ তৈরি করে ২০১০ সালে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। বর্তমানে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিশ বছরের জন্য ড্যাপ সংশোধনের কাজ চলছে।
আরও পড়ুন-
বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধনে ‘কর’ বিষয়ক জটিলতার আশঙ্কা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক চক্রান্ত ব্যক্তি আক্রোশে পরিণত হয়েছে: জয়
ওএফ/এপিএইচ/