আজ স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে রোয়ানু

উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। বর্তমানে ঝড়টি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগরের পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ২০ মে মধ্যরাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৯০ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৮০ কি.মি. পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৯৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩২৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

এটি আরও পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ২১ মে শনিবার সকাল-দুপুর নাগাদ বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২১ মে ভোর থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 
রোয়ানুর প্রভাবে উপকূলঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ কামাল বলেছেন, রাতের মধ্যে উপকূলের ১৮ জেলার সাড়ে ২১ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপকূলের সাড়ে ৮ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। উপকূলে কাজ করছেন ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী। তিনি জানান, উপকূল এলাকার ৩ হাজার ৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত চট্টগ্রামের সব সরকারি ও আধাসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব রকমের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে, ঝড়ের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এছাড়াও, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর, কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলাসমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলো। ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা পর্যায়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি সব উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। জেলা কন্ট্রোল রুমের নম্বর হচ্ছে- ৬১১৫৪৫।

আরও পড়ুন: উপকূলে ধেয়ে আসছে জলোচ্ছ্বাস, ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
/এমও/এসআই/এমএনএইচ/