এ আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশও।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সব সময় বলেছি, সন্ত্রাসবাদ একটি বৈশ্বিক ঝুঁকি। এটা শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী মোটামুটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সেজন্য আমরা চাই (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) একযোগে এটি মোকাবেলা করতে।’
সাম্প্রতিক হত্যা ও হামলার পরে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ঢাকায় একাধিক ডেলিগেশন পাঠিয়েছে।
গত মাসে ঢাকায় জুলহাজ মান্নান ও তনয় নিহতের পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন। এরপরেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নিশা দেশাই বিসওয়াল এবং তারপরে গত সপ্তাহে দেশাইয়ের অধীনস্থ কর্মকর্তা উইলিয়াম টড ঢাকায় আসেন।
টড এবং তার প্রতিনিধি দল ১২ মে থেকে ১৮ মে পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করেন। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
এর আগে দুইজন বিদেশি মারা যাবার পর গত নভেম্বরে উইলিয়াম টড এবং আরেকটি অপারেশনাল পর্যায়ের প্রতিনিধি দল জানুয়ারি মাসে ঢাকায় এসেছিলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ সিওয়াল এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মার্চে ঢাকায় আসেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় বাংলাদেশের কী কী প্রয়োজন, তার একটি তালিকা যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি তোমাদের কাছে যদি অ্যাডভান্স তথ্য থাকে সেটি আমাদের দেওয়ার জন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। সেই জায়গায় তারা যদি হার্ডওয়্যার বা সফ্টওয়্যার দিয়ে সহায়তা করতে পারে, বিশেষ করে কাউন্টার টেরোরিজম ও সাইবার ক্রাইম এর ক্ষেত্রে। আর আমাদের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করেছি।’
সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুলহাজ হত্যার পরে গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের কী কী প্রয়োজন তার একটি তালিকা করে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে এবং দুইদেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তিনি বলেন, জুলহাজ মার্কিন সরকারের একজন কর্মচারী ছিলেন এবং বাংলাদেশের শাসক শ্রেণির খুব কাছের লোকের আত্মীয় হওয়ার পরেও তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের পরে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের কর্মকর্তাদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা চেয়েছে এবং সরকার সেটি বৃদ্ধি করেছে।
তিনি জানান, আগামী জুনের ২৪ ও ২৫ তারিখে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের পার্টনারশিপ ডায়ালগের বৈঠকে নিরাপত্তা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হবে। এবারের পার্টনারশিপ ডায়ালগ ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন সরকারের সবচেয়ে বড় ভয় হচ্ছে; বাংলাদেশে উগ্রবাদ শক্তির উত্থান।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটুক এটা তারা কখনও চায়না। কারণ, তারা বাংলাদেশকে মডারেট ও ধৈর্যশীল জাতি হিসেবে বিবেচনা করে।’
জুলহাজ মারা যাওয়ার পরে এপ্রিল মাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সিএনএনকে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে যা ঘটছে সেটি বাংলাদেশের বৈশিষ্ট্য নয়।’
এদিকে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলায় ভারতের সঙ্গেও একযোগে কাজ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর এ মাসের শুরুতে ঢাকা সফরের সময়ে বলেন, এ বিষয়টি প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের জন্য উদ্বেগের এবং আমরা এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে একযোগে কাজ করছি।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক বলেন, কীভাবে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ নির্মূল করা যায়, সেটি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এসএসজেড/ এপিএইচ/