নির্বাচনি এলাকায় যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ

ইউপি নির্বাচনইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের আগের মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে আগামীকাল শনিবার দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা চলবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিক্যালস অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সালের ৫৫ নম্বর অধ্যাদেশ) এর ৮৮ ধারা অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ভোট গ্রহণের আগের তিনদিন থেকে ভোট গ্রহণের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য।

তবে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক (পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে), নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ কাজে ব্যবহারের জন্য উল্লিখিত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

উল্লেখ্য, শনিবার (২৮ মে) দেশের ৭২৯ ইউপিতে ভোট হবে। পঞ্চম ধাপের এই নির্বাচনে  ৭২৯ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে  প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন ৩ হাজার ২৫৪ জন। এর মধ্যে ১৫টি দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭২৭ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ হাজার ৫২৭ জন।  গত ২১ এপ্রিল ৭৩৩ ইউপির তফসিল ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে ৫টি তফসিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে শেষ হয়েছে এই নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার প্রচারণা। ইতোমধ্যে জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে নির্বাচনি সামগ্রী। শুক্রবার এই সামগ্রী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোয় পৌঁছে যাবে।  এদিকে, পঞ্চম ধাপের এ ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাইন আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের তাৎক্ষণিক সাজা দিতে তাদের সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।  

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকায় ভোটগ্রহণের পরদিন রবিবার পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এ নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম কমিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের দৃশ্যমান অ্যাকশনে থাকতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনি আইন অনুযায়ী কোনও নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হয়। এ সময় কোনও ধরনের প্রচারণা, মিছিল, মিটিং করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সূত্র: বাসস।

আরও পড়ুন- 

নড়াইলে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ ১০, আহত ১৫
ইউপি নির্বাচনে মৃত্যুর রেকর্ড: কর্মসূচির চিন্তা বিএনপির

/এফএস/ এএইচ/