প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯, ২০১০, ২০১১ এবং ২০১৪ সালে ব্রেস্টফিডিং কর্নার গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। অথচ সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই। তিনি তার নির্দেশনায় বলেন, কর্মক্ষেত্রে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে যেন একজন কর্মজীবী মা সমর্থ হন সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিমা-ব্যাংক, শপিং মল, কল-কারখানা, পেশাজীবী সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একজন মা যদি কর্মস্থলে শিশুকে তার চাহিদা অনুযায়ী বুকের দুধ ও ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়াতে পারেন তার সুফল অনেক। সবচেয়ে বড় সুফল শিশুর সুস্থতা।
আরও পড়তে পারেন: ইনজুরিতে মুস্তাফিজ
বেসরকারি ব্যাংকে কাজ করেন তাজমিন জাহান (ছদ্মনাম)।সন্তান জন্মানোর পাঁচ মাস পরে তিনি কাজে যোগদান করতে বাধ্য হন। সেসময় তার কন্যা বুকের দুধ খেতো। মেয়েকে বাড়িতে রেখে এসে মেয়ের খাদ্য যেমন নিশ্চিত করতে পারেননি তেমনি নিজেকেও পড়তে হয়েছে নানান বিড়ম্বনায়। মায়ের বুকের দুধের বিকল্প হিসেবে নামকরা এক বিদেশি কোম্পানির গুঁড়ো দুধ খাওয়ালে তার সন্তানটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। একদিন চিকিৎসক জানালেন, মায়ের দুধের পরিবর্তে নামি ওই গুঁড়ো দুধই সন্তানের অসুস্থতার কারণ।
তাজমিন বলেন, যদি আমার ব্যাংকে মায়েদের জন্য একটি কর্নার রাখা হতো তা হলে আমাকে আর আমার সন্তানকে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। মেয়েটি আমার অপুষ্টি নিয়ে বেড়ে উঠতো না।
সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপন করার জন্য চিঠি দিয়েও কোনও জবাব পাননি দাবি করে বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের পরিচালক খুরশিদ জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কর্মজীবী মায়েরা কী সন্তান জন্মানোর পরে কাজ করবে না? তাদের কী আর কাজের দরকার নেই? অফিসে যদি বাচ্চা দেখার ব্যবস্থা না থাকে তাহলে মা কাজ করবে কী করে। অনেকেরই বাসায় শিশু সন্তানকে দেখার মতো কেউ নেই। তাছাড়া মা সন্তানকে বাসায় রেখে আট ঘণ্টা কাজ করলে ব্রেস্টফিডিংতো বন্ধ হয়ে যাবে।
খুরশিদ জাহান বলেন, ২০০৯ সালে যখন প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন তখন থেকেই সবাইকে আমরা চিঠি দিয়েছি। গত দুইতিন মাস আগেও সব ব্যাংকগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছি। কেউ কেউ রেসপন্স করলেও সবাই করেনি।শুধু চিঠি নয়,দেখা করেও তাদেরকে বলা হচ্ছে বিষয়টা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। গতবছর ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহে’ থিম ছিল মাতৃত্ব সুরক্ষা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বলা হয়েছিল কাজের মাঝে শিশু করবে মায়ের দুধ পান-সবখানে সবাই মিলে করি সমাধান।এর মানে হলো, মায়েরা যেখানেই কাজ করুক না কেন, সেখানেই যেন তারা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।
অারও পড়তে পারেন: পাঠ্যসূচি বাতিল না করলে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ: চরমোনাই পীর
বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফি অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের এক জরিপে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশুদের এক তৃতীয়াংশ শিশু খর্বকায়, আর ৩৩ শতাংশ শিশুর ওজন কম,১৪ ভাগ শিশু কৃশকায় (লম্বার তুলনায় ওজন খুবই কম)।এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিংয়ের যে হার একশ’ ভাগ হবার কথা,সেখানে আমাদের রয়েছে ৫৫ শতাংশ। শিশুর পুষ্টিমাণ নিশ্চিতে সব জায়গায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার চালু করার প্রয়োজন।
নারীদের অনেক বড় কাজের একটা ক্ষেত্র হলো পোশাক কারখানা, সেখানেও এই ফিডিং সেন্টার রাখার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ডা. এসকে রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন বিজিএমইএ এবং এফবিসিসিআই’র সঙ্গে বৈঠক করেছে, প্রতিটা পোশাক কারখানায় ফিডিং সেন্টার রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়েছেন। ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন তাদেরকে এ বিষয়ে সব ধরনের ট্যাকনিক্যাল সাপোর্টও দেবে।
এখনও সব জায়গায় সরকারি এই নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়া প্রসঙ্গে ডা.এসকে রায় বলেন, বেসরকারি ক্ষেত্রে সরকারি হুকুমের মতোই একটা সার্কুলার হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। আমরা বারবার বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে দেখছি সীমিত পরিমাণে সাড়া পাচ্ছি। ওদের যে রেগুলেটরি অথরিটি রয়েছে তাদেরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দিচ্ছি। তাতেও সাড়া মিলছে না। তবে থেমে থাকলে চলবে না,আমাদের চেষ্টা জোরদার রাখতে হবে।আরও কংক্রিটভাবে কাজ করতে হবে।বিবিএফ চিঠির পর চিঠি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোনও উত্তর পাই না আমরা।
আরও পড়তে পারেন: হিরোশিমায় বেঁচে যাওয়া বৃদ্ধকে জড়িয়ে ধরলেন ওবামা
/এমএসএম /