পথশিশুদের মধ্যে নতুন আতঙ্ক- থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া। এদিকে থানা থেকে বলা হচ্ছে, অভিযোগ ছাড়া কাউকেই ধরা হয় না। আর শিশুদের পাল্টা বক্তব্য- তারা যা করেনি সেটা তাদের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়।
পথশিশুদের সুরক্ষা নিয়ে কর্মরত মজার ইশকুলের স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, যাদের ঘরবাড়ি দিতে পারিনি আমরা। যারা ঝড় বৃষ্টিতে পথে বাস করতে বাধ্য হয়, তাদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ভালো জীবন দেওয়ার বদলে আটক করে অপরাধী বানানো হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে চুরি, চুরিতে সহযোগিতা, সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ এনে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। গত সেপ্টম্বরে এই স্বেচ্ছাসেবকদেরই কেউ কেউ পথশিশুদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে পাচার মামলার শিকার হয়েছিলেন।
সম্প্রতি মোহাম্মদপুর থানায় ৯ শিশুকে আটক করে চোর ‘উপাধি’ দিয়ে আদালতে হাজির করার পর আবারও পথশিশুদের নিয়ে করণীয় বিষয়ে আলোচনা উঠছে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পথশিশুদের দেখলেই চোর উপাধি দেওয়ার প্রবণতা সমাজে রয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ এই শিশুদের আরও শঙ্কিত করে তুলবে। আর আইনজীবীরা বলছেন, এদের চোর আখ্যায়িত করা বা চোরের সহযোগী অ্যাখ্যায়িত করলে তারা যাদের কথিত সহযোগিতা করছিল তাদের সামনে হাজির করা হোক।
আটক করা ৯ শিশুকে আদালতে হাজির করা হলে দেখা যায় সবার মুখ মলিন। কারও গায়ে পোশাক আছে কারও গায়ে নেই। তাদের দাবি, তারা চোর নয়। পুলিশ ‘খামোখা’ তাদের ধরেছে। অথচ প্রাথমিক প্রতিবেদন পুলিশের দাবি এরা কিশোর অপরাধী।
এদিকে রোববার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই মোহাম্মাপুরের ৯ শিশুকে কারাগারে পাঠানোর বিষয় জানতে চেয়ে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ নোটিশটি পাঠানো হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম সরকারি ডাকযোগে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
পথশিশুরাই অভিযোগ করছে, তাদের নানা ধরনের হয়রানির চেয়ে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার ভয় বেশি। শিহাব নামের এক পথশিশু বলে, আমাকে মারেন অসুবিধা নাই। কিন্তু ধরে নিলে কারাগারে দিবে। আমিতো মরেই যাব। যদিও থানা একেবারেই স্বীকার করতে রাজি না।
এদের অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই উল্লেখ করে শেরেবাংলানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিজি বিশ্বাস বলেন, পুলিশ পথশিশুদের শুধু শুধু ধরবে কেন। এ ধরনের অভিযোগ করে থাকলে সেটা ঠিক করেনি। তবে আমি টহল পুলিশকে বিষয়টি দেখতে বলব।
জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) কর্মকর্তা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, শিশু আইনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিটি থানায় শুধু শিশু ডেস্ক প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না, সেগুলোকে সত্যিকার অর্থে শিশুদের অধিকার রক্ষার কাজে সচল করতে হবে।
এদিকে মোহাম্মদপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন মীর বলেন, এই কিশোরদের সুনির্দিষ্ট কারণেই আটক করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই আদালতের মাধ্যমে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওরা ছোট হলেও বাইরে বাইরে থাকার কারণে কথাবার্তায় খুব পাকা। আমাদের কাছে অভিযোগ থাকায় আমরা তুলে নিয়ে এসেছিলাম। তাদের কথার ভিত্তিতে তাদের যারা পরিচালনা করতো তাদেরও ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আপনার মেয়ের নাম আপনিই রাখেন’
রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার কর্মকর্তার নাম
ছবি: নাসিরুল ইসলাম
এজে/