তবে ওই আলোচনা সভায় থাইনীতি নির্ধারকরা মনে করেন- ঢাকা-ব্যাংকক সম্পর্কের উন্নতির আরও সুযোগ আছে এবং এজন্য দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
এই আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী তারানা হালিম অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া মহিলা ও শিশুমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন থাইল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি ট্যান্ট্রাপর্ন।
থাইল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মোনা তাসনিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি চেয়েছিলাম দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব একসঙ্গে বসে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করুক। এ আলোচনায় বাংলাদেশের টেলিকম, জ্বালানি ও পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ করার জন্য চিহ্নিত করা হয়।
বিকালে মিনিস্টারিয়েল প্যানেল আলোচনায় থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে শিল্পমন্ত্রী আচাকা সিবানরুয়াং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভাইস মিনিস্টার পান্সাক সিরিরুচাটাপং, জ্বালানি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান কুরুচিৎ নাকরনথাপ অংশগ্রহণ করেন। পরে থাই পর্যটনমন্ত্রী কবকার্ন ওয়াটানাভরাংকুল বাংলাদেশ-থাই ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করেন।
প্যানেল ডিসকাশনে শিল্পমন্ত্রী আচাকা সিবানরুয়াং বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে অনেক সুযোগ আছে। আমদানিকারক হিসেবে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের ৩৪তম অংশীদার এবং রফতানিকারক হিসেবে ৭৭তম অংশীদার। তবে দুই দেশের বাণিজ্য এখনও এক বিলিয়ন ডলারের নিচে।
তিনি বলেন, থাই সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোতে ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করে থাকে এবং এখানে বাংলাদেশও আছে।
পাঁচ বছর আগে তার বাংলাদেশ সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি থাই কোম্পানি বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল কিন্তু জমির অভাবে করতে পারেননি।
থাইমন্ত্রী মনে করেন, জমির সমস্যা সমাধান হলে বাংলাদেশে থাই বিনিয়োগ বাড়বে।
ফেডারেশন অব থাই ইন্ডাস্ট্রি’র চেয়ারম্যান চেন নামচাইসিড়ি বলেন, থাইল্যান্ডকে তার পশ্চিমের প্রতিবেশীদের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত থাই বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় জায়গা।
এছাড়া ওষুধ শিল্প, নির্মাণ শিল্প, অটোমোবাইল, টেক্সটাইল, খাদ্য ইত্যাদি খাতে থাই বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় অঞ্চল বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, জাপান বা অন্য দেশের অটোমোবাইল বাজার দখল করার কোনও ইচ্ছা তাদের নেই, বরং তারা একটি ছোট বাজারে কাজ করতে চায়।
জ্বালানি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান কুরুচিৎ নাকরনথাপ বলেন, থাইল্যান্ডের রিনিউয়েবল জ্বালানি বিষয়ে অভিজ্ঞতা আছে এবং বাংলাদেশে তারা এ বিষয়ে কাজ করতে চায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ড আসিয়ান দেশগুলোতে বিনিয়োগ করছে কিন্তু বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ কম। বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে এবং এখানকার বিনিযোগকারীরা চাইলে এর একটি থাইল্যান্ডকে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের বিনিয়োগ সবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি থাই ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এসময় থাইল্যান্ডে শুল্কমুক্ত কোটা সুবিধার কথা জানান তোফায়েল আহমেদ। কারণ থাইল্যান্ড বর্তমানে ৬ হাজার ৯৯৮টি বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত সুবিধা দিচ্ছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এ খাতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে থাই বিনিয়োগকারীরা এ সুযোগ নিতে পারেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, আমাদের সরকারের উদ্দেশ্য দেশের ১০০ ভাগ জনগণ যেন মোবাইলফোন ব্যবহার করে এবং এ খাতে থাই ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন।
এদিকে সকালে থাই বাণিজ্যমন্ত্রী আপিরাদি ট্যান্ট্রাপর্ন বলেন, এ বছরের শেষে যৌথ বাণিজ্য কমিটির বৈঠক বাংলাদেশে হবে এবং সেখানে তিনি অংশগ্রহণ করবেন।
/এসএসজেড/এএইচ/