রমজান সামনে রেখে গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ

গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদরমজানে গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকা যানজটমুক্ত রাখতে ফুটপাত থেকে হাকারদের উচ্ছেদ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বুধবার (১ জুন) সকাল থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও এ উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশ গুলিস্থান, পুরানা পল্টন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিরো পয়েন্ট, ফুলবাড়িয়া, বায়তুল মোকাররম এলাকার রাস্তা ও ফুটপাথে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছে। হকাররা কেউ কেউ নিজেদের মতো করে উচ্ছেদের আগেই জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন।

উচ্ছেদ অভিযান কাযক্রম পরিদর্শন শেষে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, গুলিস্তানের সড়কটি রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। রমজানে নাগরিকদের ভোগান্তি থেকে বাঁচাতে এই সড়ককে যানজটমুক্ত রাখতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের প্রথম ধাপে মতিঝিলের সড়ক থেকে অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ

তবে উচ্ছেদের পরপরই ফের হকারদের বসতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের এমন মন্তব্যের উত্তরে কমিশনার বলেন, এবার আর কেউ বসতে পারবে না। আপনারা সাতদিন পর এসে দেখে যাবেন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে কিনা। উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক পুলিশ অংশ নেয়।

যানজট প্রসঙ্গে কমিশনার আরও বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় তুলনামূলকভাবে রাস্তা কম। কিন্তু যানবাহন ও মানুষের সংখ্যা বেশি। রাস্তাসহ ফুটপাটে অবৈধ দোকান বসার কারণে যানযট অসহনীয় হয়ে পড়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই এর সফলতা পুরোপুরি অর্জিত হবে না। এ বিষয়ে সফলতা শতভাগ অর্জন করতে সব পেশাজীবীসহ ব্যবসায়ী এবং নাগরিকদের সাহায্য ও সহযোগিতা দরকার।গুলিস্তানে পুলিশের হকার উচ্ছেদ

রমজান মাসে কেনাকাটায় জাল নোটের ব্যবহার প্রতিরোধকল্পে তিনি বলেন, ‘এই উদ্দেশ্যে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এবং থানা পুলিশ কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জালনোট সর্ম্পকে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে এবং জাল নোট শনাক্তকরণের জন্য প্রত্যেক মার্কেটে সিসিটিভি স্থাপনসহ জালনোট শনাক্তকরন মেশিন রাখার ব্যবস্থা করা হবে।’

উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শণকালে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মোঃ শাহাব উদ্দীন কোরেশী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিক ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) জামিল আহমদ সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন-

অনিবন্ধিত সিম বন্ধ: কাস্টমার কেয়ারে ভিড়

মহিবুরের ফাঁসি, মজিবুর ও রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড

/এআরআর/এফএস/