রবিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: সরকারি হাসপাতালে নার্স নিয়োগে ‘হযবরল’
পৃথিবীতে জনসংখ্যা বাড়ছে এবং বাড়তি জনসংখ্যার কারণে পরিবেশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনসংখ্যার আধিক্য এবং মানুষের অপরিণামদর্শী ক্রিয়াকলাপের ফলে ঝুঁকিসঙ্কুল হয়ে উঠছে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পৃথিবীর জলভাগের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে জলবায়ুর গতিপ্রকৃতি।
বন্যপ্রাণীর বেআইনি ব্যবসার ফলে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গো ওয়াইল্ড ফর লাইফ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।
তিনি বলেন, তার সরকার রূপকল্প ২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছে। উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে পরিবেশের সুরক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
দেশের বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দ দূষণ রোধেও সরকার আইনানুগ ও সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকারখানার দূষণ থেকে দেশের মাটি, নদ-নদীকে রক্ষার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের যত্রতত্র অপরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট এলাকায় শিল্প এলাকা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অারও পড়ুন: তিন কোটি টাকা ব্যয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আ. লীগের সম্মেলন!
পরিবেশসম্মত উপায়ে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের মাধ্যমে পানি, মাটি ও বায়ু দূষণরোধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা সরকারের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্প উদ্যোক্তাদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় তার সরকার ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ এবং ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ড গঠন করেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বিপন্নতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৈসর্গিক পরিবর্তন রোধ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশের উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাই জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’পুরস্কার আমরা অর্জন করেছি। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তথ্যসূত্র: বাসস
/এমএসএম /