বোটানিক্যাল গার্ডেনে শিশু নির্যাতন

পুলিশ বলছে জায়গাটি ‘মিসগাইড’ করা হয়েছে




শিশু-নির্যাতনসাতটি শিশুকে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে দুই তরুণ। লাঠির প্রতিটি আঘাতের সঙ্গে তারা প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, ‘এই রাস্তা দেখাইছে কেডা, কস না কেন, কে এই রাস্তা দেখাইছে।’ লাঠির আঘাতে শিশুরা বসে পড়লে তাদের দাঁড় করিয়ে আবারও পেটানো হচ্ছে। শিশুদের এভাবে পেটানোর সময় পাশ দিয়ে দুএকজন লোককে নীরবেই চলে যেতে দেখা গেছে। ওই সময় এক নারী এসে জানতে চান, কেন শিশুগুলোকে পেটানো হচ্ছে? কিন্তু নির্যাতনকারী তরুণ তাকে ধমক দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিশু নির্যাতনের এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে লেখা রয়েছে, ‘ঢাকার কোনও এক স্কুলের ছাত্র হবে বাচ্চাগুলো। বোটানিক্যাল গার্ডেন দেখার শখ কিন্তু পকেটে টাকা নেই। কারও সহযোগিতা নিয়ে বা কোনও এক ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়েছিল বোটানিক্যাল গার্ডেনে। কিন্তু ধরা খেল বোটানিক্যাল গার্ডেনে রাজত্ব করা সন্ত্রাসীদের হাতে। বাচ্চাগুলোকে লাইনে দাঁড় করিয়ে নির্মমভাবে পেটালো। দুই একজন পথচারী এগিয়ে গিয়ে অনুরোধ করেছেন না মারার জন্য। উল্টো ধমকে দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হলো।
আমার প্রশ্ন- এই কয়টা বাচ্চা ছেলে টিকিট না করাতে এদের ধান্দাবাজির কতো টাকা লস হয়ে গেল যার কারণে এই নির্মম অত্যাচার।
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

মেল কাজী নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের এই বীরপুরুষটাকে কি কেউ চেনেন? যদি চিনে থাকেন, তাহলে তার পরিচয়সহ এই ভিডিওটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করেন।

আরেকজন লিখেছেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনের এই শিশু নির্যাতককে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে আহবান জানাচ্ছি।

রাজন নামের একজন লিখেছেন, বিবেকবিহীন মানুষ এরা। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কর্তৃপক্ষের। সাধারণ মানুষদের জন্য এরা হুমকি স্বরূপ। এসব সামাজিক আবর্জনার জন্য আমরা এইসব জায়গাগুলোতে যেতে চাই না।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান শিশুদের এই নির্যাতনের ভিডিও নিয়ে বলেন, কাউকে লাঠি দিয়ে আঘাত করারই কোনও অধিকার কারও নেই। শিশুদেরতো নয়ই। অথচ সমাজে বার বার আমরা এটাই দেখে আসছি। শিশুদের মারা (আঘাত করা) খুব সহজ, কারণ তারা প্রতিবাদ করতে পারে না, তারা শুধু চিৎকার করতে পারে। আর এই চিৎকারটাতেও অনেকে মজা পায়। গত বছরগুলোতে আমরা এটাই দেখে আসছি, তারা হাসছে, ভিডিও করছে। কিন্তু এখানে যদি সবাই এগিয়ে আসে তাহলে অনেক ঘটনাই ঘটতো না সমাজে।

এদের প্রতিরোধে একা গেলে হবে না, উল্টো সেই মার খাবে, তাই সবাইকে একসঙ্গে তার প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের দেশে বাঙালি জাতিগত কারণেই কিনা জানি না, একসঙ্গে হতে অনেক সময় লাগে জানিয়ে এলিনা খান বলেন, আর এই সময়টা লাগে বলেই অনেকগুলো ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। রাজন, রাকিব এদের ঘটনা ঘটার পরও এসব নির্যাতন চলছেই, এর কমতি দেখছি না। এই ঘটনাটির যেহেতু ভিডিও রয়েছে, আমি আশা করছি এই যুবকদেরকে চিহ্নিত করা যাবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে, অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করি।

তিনি বলেন, আর এই শিশুগুলোকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাটা করা দরকার, আর যদি পথশিশু হয়ে থাকে তাদের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ারও অনুরোধ করবো আমি।

শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ওই এলাকায় গিয়েছি। কিন্তু জায়গাটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমার ধারণা, স্থানটি বোটানিক্যাল গার্ডেন নয়। কারণ জায়গাটি সংরক্ষিত এলাকা, আমাদের বাহিনীসহ গার্ডেনের নিজস্ব সিকিউরিটি আছেন ওখানে, তাদের চোখ এড়িয়ে এটা এভাবে ঘটবে কীভাবে। আমার মনে হয়, এলাকাটি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। জায়গাটি বোটানিক্যাল গার্ডেন বলা হলেও আসলে জায়গাটি তা নয় বলেই আমার ধারণা।

 


এজে/