‘ক্ষমতায় না থাকলেও জামায়াতের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো’

অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদজামায়াত ক্ষমতায় না থাকলেও তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইব্রাহিম খালেদ।
সোমবার বিকেলে সেগুনবাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোল ও সাম্প্রদায়িকতা-জঙ্গিবাদ বিরোধী মঞ্চের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা চক্রে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় নেই, কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও অনেক ভালো। মীর কাসেম আলীর অবস্থা আগে ভালো ছিল না। তিনি একজন কর্মী ছিলেন। তিনি সৌদি আরব থেকে মসজিদ সংস্কারের নামে অর্থ অনুদান আনতেন এবং পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। আর এসবের সুবাদেই তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যান।’
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন অংশে জামায়াতের যেসব লোক ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই অবসরে গেছেন। তাই এখন বেছে বেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র সাজিয়ে তুলুন। তাহলে একটি সক্রিয় ও মেধাবী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের আমলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে জামায়াতের লোক ঢোকানো হয়েছে। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগের আমলেও জামায়াতের লোকদের আওয়ামী লীগের প্যাডে সিল মেরে খাঁটি আওয়ামী লীগার বানিয়ে সুপারিশ করা হচ্ছে।’

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য আলোচনা চক্রে অংশ নিয়ে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার হয়েছে সাহসিকতার সঙ্গে। কিন্তু ওই যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি এখনও চালু আছে। এটা খেয়াল রাখতে হবে।’

চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবির আগে বিএনপির মাধ্যমে ক্রিয়াশীল ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ক্রিয়াশীল হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জামায়াতের লোককে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আর এর পেছনে বাণিজ্যিক ভূমিকা ছিলো।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান বলেন, ‘একটিমাত্র কাজের জন্য শেখ হাসিনার সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য, আর তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের বিচার।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা চক্রে আরও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী প্রমুখ।


এসআইএস/এজে