এছাড়া, র্যাগিং বন্ধে গত ১৩ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বিভাগীয় সভাপতি ও হল প্রাধ্যক্ষদের সভায় শৃঙ্খলা বিধি হালনাগাদ করার জোরালো দাবি উঠেছিল।
শৃঙ্খলা বিধির প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন করতে গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, প্রীতিলতা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক খবির উদ্দিন ও সদস্য সচিব প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা।
কমিটির সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, কমিটি কাজ শুরু করেছে। খসড়া তৈরির জন্য ইতোমধ্যে কমিটির সদস্যদেরকে শৃঙ্খলা বিধির কপি পাঠানো হয়েছে। হালনাগাদের কাজে আমরা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধির সহায়তা নিতে পারি। পুরো কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক সভা করতে হবে। হালনাগাদ শেষে সিন্ডিকেট তা চূড়ান্ত করবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমানে যে শৃঙ্খলা বিধি অনুসরণ করছে সেটি ১৯৯০ সালে প্রণীত। এর আগে ২০০৯ সালে শৃঙ্খলা বিধি অধ্যাদেশ হালনাগাদ করা হয়েছিল। পরিবর্তিত সেই বিধিতে ছাত্রীদের রাত ১০টার মধ্যে হলে ফেরার নিয়ম করা হয়। এ নিয়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হলে সেই শৃঙ্খলা বিধি স্থগিত করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কোনও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মূলত বিধিমালার প্রথম পর্বের ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
৪ নং ধারায় বলা আছে,কোনও ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক, প্রভোস্ট বা উপাচার্য কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কোনও ব্যক্তি, শিক্ষক, কর্মচারী বা হল কর্মচারীর প্রতি অসদাচরণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে জরিমানা থেকে আজীবন বহিষ্কার পর্যন্ত যে কোনও ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
৫ নং ধারায় বলা আছে, কোনও ছাত্র যদি নৈতিকতা পরিপন্থী কিংবা দেশের আইনের চোখে সামাজিক অপরাধী বলে গণ্য হয়, এমন কাজ করে তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকেন এমন এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শৃঙ্খলা বিধির ৪ ও ৫ ধারায় কোনও অপরাধ করলে কি শাস্তি সেটা আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। শিক্ষার্থীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তেমন একটা নেই। ফলে জরিমানা থেকে চিরতরে বহিষ্কারের মানদণ্ডে বিচার করতে গিয়ে অনেক সময় লঘুপাপে গুরুদণ্ড,আবার অনেক সময় গুরুতর অপরাধে লঘুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটে।’
গত বছর পহেলা বৈশাখে এক ছাত্রীকে লাঞ্ছনা, ছিনতাই ও মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আজীবন বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।পরে নভেম্বরে ওই বহিষ্কারাদেশ চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী। শুনানি শেষে গত ২০ মার্চ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বহিষ্কারাদেশকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।
ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারকরা তদন্ত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বিধিকে ‘সেকেলে ও দুর্বল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। যতো দ্রুত সম্ভব এটি হালনাগাদ ও যুগোপযোগী করার পরামর্শও দেন আদালত।
এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও তা কার্যকর না হওয়া কিংবা পরবর্তীতে শাস্তি কমিয়ে আনার অসংখ্য নজির আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে শৃঙ্খলা বিধির দুর্বলতাকে দায়ী করেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-
২০ কোম্পানিকে ওষুধ তৈরি বন্ধের নির্দেশ
রমজানে বিদ্যুৎ-পানির আশ্বাস আছে, বাস্তবতা ভিন্ন
/এনএস/এমএসএম /