বিকেলে যারা সারি বেঁধে মন্দিরে ঢুকতে থাকেন তারা সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, মাটি কাটা শ্রমিক, গৃহপরিচারিকা এমনকি ভিক্ষুকও। মোট কথা সমাজের নিম্নবিত্তরাই এখানে প্রবেশ করেন ইফতারের আগে আগে। আর তাদের জন্য প্যাকেটভর্তি ইফতার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের প্রধানসহ অন্যরা। এ চিত্র গত ছয় বছরের।
শুরুর দিকে ইফতার নিতে আসা মানুষের সংখ্যা এক দেড়শ’ থাকলেও এখন সে সংখ্যা প্রায় পাঁচশ’ ছাড়িয়ে গেছে। প্রধান ফটকের নিরাপত্তার দায়িত্বে সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত থাকেন নড়াইলের আজাদ মুন্সি। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে আমি এখানে আছি, রোজার মাসে এই মন্দিরে নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য ইফতার দেওয়া দেখি।
‘আমরা সবাই মানুষ, তারপর বাঙালি, এখানে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতিটাই আসল কথা, কে বৌদ্ধ, কে মুসলিম, কে হিন্দু-খ্রিস্টান সেটা যার যার ধর্মে, সবাই একসঙ্গে খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পারি, এখানে কোনও ভেদাভেদ নেই, এটাই মনুষ্য জীবনের আনন্দ’- কথাগুলো বলেন ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারের মন্দির প্রধান শুদ্ধানন্দ মহাথেরো।
একই কথা সবুজবাগ এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করা পারুলেরও। ‘ধর্ম ভিন্ন হইছেতো কী হইছে? ভাতের লগে কিছু না।’
এলাকাবাসী এবং মন্দির প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গত ছয় বছর ধরে এই মন্দির থেকে নিম্নবিত্তদের জন্য ইফতারি দেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের সামনে অবস্থিত হারুন হোটেল পুরো ইফতার বানানোর কাজ তদারকি করে। হারুন হোটেলের ম্যানেজার কৃষ্ণপদ সাহা। প্রতিদিন সকালে মন্দির থেকে টাকা দিয়ে দেওয়া হয় কৃষ্ণকে, দুপুরের পরেই মন্দিরের ভেতরে অবস্থিত রান্নাঘরে বেগুনি, আলুর চপ, পিঁয়াজি আর ছোলা ভাজা হয়। আর ইফতারির প্যাকেটে এর সঙ্গে আরও থাকে জিলাপি এবং মুড়ি। পঞ্চাশ টাকা করে খরচ ধরা হয় এই প্যাকেটের আর প্যাকেট করা হয় প্রতিদিন পাঁচশ’র মতো। কেউ কেউ ইফতারের পরও আসেন ইফতার নিতে, তখনও তারা খালি হাতে ফেরেন না।
রাজনৈতিক নেতারা সাহায্য করেন কি না- জানতে চাইলে শুদ্ধানন্দ বলেন, ‘নাহ… নেতারা কথা বলেন বেশি কিন্তু কাজ করেন না। বরং সাধারণ মানুষই সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।’
বৌদ্ধ মন্দিরের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তিনি বলেন, ‘যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের আমি সাধুবাদ জানাই এবং তাদের উদার মনের প্রশংসা করি। একইসঙ্গে অন্যরাও যেন এতে উদ্বুদ্ধ হয়, এই শিক্ষাটা নেয়, সবাই যেন অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহিষ্ণু, সহমর্মী এবং সহানুভুতিশীল হয়। সেই সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব সর্ম্পকেও যেন সচেতন হয় সেটাও আশা করি।’
ইমাম ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, ‘একজন রোজাদারকে ইফতার করানোটাই পূণ্য। পরকালেতো বিচার হবে আল্লাহ যেভাবে চাইবেন সেভাবে। তবে দুনিয়াতে একজনের পূণ্যের কাজকে আল্লাহ নিশ্চয় মর্যাদা দেবেন।’
- দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিল খুনিরা: পুলিশ
- সাঁড়াশি অভিযানে সারাদেশে আটক সহস্রাধিক
- এবার পাবনায় আশ্রমের সেবককে কুপিয়ে হত্যা
এজে/