সংসদীয় কমিটির বিশেষজ্ঞ দল দেশের ৮৫টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ভেজাল ওষুধ উৎপাদন ও মানসম্পন্ন ওষুধ প্রস্তুতে সক্ষমতা না থাকায় ২০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেয়। সংসদীয় কমিটি তাদের আগের বৈঠকে প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে তা বাস্তবায়নের সুপারিশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। ২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টেকনো ড্রাগ রয়েছে। এছাড়া, জিএমপি নীতিমালা অনুযায়ী পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনে অক্ষম ২২টি প্রতিষ্ঠানের ওই গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করে। যার মধ্যে বেনহাম ফার্মা রয়েছে।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বেনহাম ফার্মাকে নতুন করে ওই একই গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রস্তুতে অনুমতি দিয়েছে। এ ছাড়া টেকনো ড্রাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ পাঠিয়েছেন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।
বৈঠক সূত্র জানায়, রবিবারের বৈঠকে মোস্তাফিজুর রহমান বেনহাম ফার্মাকে দেওয়া অনুমতিপত্র সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ সময় কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে দেওয়া অনুমতিপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি মহাপরিচালককে উদ্দেশে করে বলেন, একজন মহাপরিচালক কিভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠাতে পারেন?
জানতে চাইলে বৈঠকে অংশ নেওয়া কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বাংলা ট্রিবিনকে বলেন, দেশে আইন আছে, আইনের প্রয়োগ নেই। সে জন্যই এসব অনিয়ম হচ্ছে। আর আইন যেটুকু প্রয়োগ হয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসছে। যে কারণে ইচ্ছে থাকলেও অনেক কিছু করা যায় না। তিনি আরও বলেন, জনবলের অভাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ভেজাল ওষুধ তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
জানা গেছে বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যাচাই-বাছাই করে সঠিক মানের ওষুধ তৈরি করা ৪০টি প্রতিষ্ঠান রেখে বাকিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা যায় কি না, সে বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। রুহুল হক ভেজাল ওষুধ তৈরি করা প্রতিষ্ঠান বিরুদ্ধে দু’বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করার সুপারিশ করেন।
বৈঠকে কমিটির সুপারিশ করা ২০টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দ্রুত বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
মন্ত্রণালয় বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ইতিমধ্যে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়কি বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো এই বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মা, স্পার্ক ফার্মা, স্টার ফার্মা ও ট্রপিক্যাল ফার্মা।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ইউনুস আলী সরকার, সেলিনা বেগম প্রমুখ অংশ নেন।
আরও পড়তে পারেন: কাফনের কাপড় পাঠিয়ে তথ্যমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি
/ইএইচএস/এমএনএইচ/