ইতিপূর্বে ব্রিকলেনে একাধিক বইয়ের দোকান থাকলেও বর্তমানে সঙ্গীতাই লন্ডনের একমাত্র বাংলাদেশি বই বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ইন্টারনেটে সহজেই বাংলা গান কিংবা মুভি দেখার সুযোগ থাকায় এখন সিডি ও ডিভিডি বিক্রি কমে গেছে বলে জানালেন সঙ্গীতার স্বত্বাধিকারী শাহনূর মিয়া। একটা সময় বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকা পাওয়া যেত এই সঙ্গীতায়, এখন দৈনিক খবরের কাগজ আনা বন্ধ করে দিয়েছেন শাহনূর মিয়া। তবে বইয়ের চাহিদা থাকার পরও বিমানের কার্গো ভাড়া সবজির তুলনায় তিনগুন বেশি হওয়ায় এখন আর আগের মতো বই আমদানি করতে পারছেন না তিনি। প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীর খোঁজ করছেন কেউ না কেউ, কিন্তু বিমানের কার্গো পরিবহনের খরচ দিয়ে লন্ডনে বই এনে আর পোষাতে পারছেন না তিনি।
সিলেটের নানু মিয়া পূর্ব লন্ডনেই থাকেন। ইস্ট লন্ডনে প্রায় সাত-আটটি দোকান ঘুরে কোথাও লুডু খেলার বোর্ড খুঁজে না পেয়ে সঙ্গীতায় এসে ঠিকই লুডু খেলার বোর্ড পেয়ে গেলেন নানু মিয়া। সঙ্গীতায় দেখা হলো নানু মিয়ার সঙ্গে। লুডু কিনতে এসে নানু মিয়া জানতে পারেন নানা প্রতিবন্ধকতায় সঙ্গীতা প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। নানু মিয়া বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘দেখুন আজ যদি সঙ্গীতা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এই লুডু বোর্ড কিনতে হলে আমাকে বাংলাদেশে যেতে হবে অথবা কাউকে দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সাপ-লুডু বোর্ড আনাতে হবে।’ শুধু লুডু বোর্ডই নয়, সুনামগঞ্জের গ্রামীণ খেলা ‘দশ-পঁচিশ‘ এর দেখাও মিললো সঙ্গীতায়।
ব্রিটেনের লেখক, সাংবাদিক শিল্পীদের আড্ডাস্থল সঙ্গীতায় কাকতলীয়ভাবে দেখা হয়ে গেলো সঙ্গীতশিল্পী সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘সঙ্গীতা যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেনই, পাশাপাশি মূলধারার গবেষক ও বিদেশি নাগরিকরা, যারা ব্রিকলেনে আসলে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চান, তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। সেলিম চৌধুরী তার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে বললেন, ’’দেখুন কিছুক্ষণ আগে ‘সঙ্গীতায়‘ একজন বিদেশি ক্রেতা এসে বললেন, তিনি রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালা ও পোস্ট মাস্টার গল্পটা খুঁজছেন, ধরুন আজ সঙ্গীতা বন্ধ হয়ে গেলো, তাহলে এই লোকটি রবীন্দ্রনাথকে খুঁজতে কোথায় যাবেন বলুন তো?‘‘ আমি সঙ্গীতার স্বত্বাধিকারী শাহনূর মিয়ার দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলাম, ‘কিভাবে সঙ্গীতাকে বাঁচিয়ে রাখা যায়?’ শাহনূর মিয়া জানালেন, বই ও হস্তজাত শিল্পের পরিবহন খরচ সবজির তুলনায় তিনগুন বেশি। প্রতিকেজি সবজি আমদানি করতে বিমানে কার্গো পরিবহন খরচ পড়ে ৮০ টাকা আর প্রতিকেজি বই লন্ডনে আনতে আমদানিকারকদের গুনতে হয় ২৫০ টাকা। বিমানে কার্গো পরিবহন খরচের আধিক্যের কারণে লন্ডনে বাংলাদেশি বই অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে হয়, এতে ক্রেতাদের আগ্রহ কমে যায়। বিক্রেতারাও এভাবে আর ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পারছেন না।
ইউকে বাংলা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক সাংবাদিক রেজা আহমেদ ফয়সল চৌধুরী শোয়েবও মনে করেন, সঙ্গীতাকে বাঁচাতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-