অংশীদারিত্ব সংলাপে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আগামী ২৩-২৪ জুন পঞ্চম অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সংলাপে নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে এমনটাই ফুটে উঠে।  মার্শা বার্নিকাট (ফাইল ফটো)

ধারণা করা হচ্ছে, অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ থাকবে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনার দিকে।

পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

শহীদুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ নিরাপত্তার বিষয়টিকে বড় পরিসরে দেখে, আর তা মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ, সহিংসতা, শান্তিরক্ষা এবং অন্যান্য বিষয় থেকে নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনা করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নয়নের নিরাপত্তাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার আমেরিকান সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আলোচনায় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং উভয় দেশকেই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা তা না করতে পারি, তাহলে সন্ত্রাসীরা জিতে যাবে। বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে একযোগে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৃহৎ নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। যার লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসবাদ, সহিংস উগ্রবাদ, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ করা। নতুন একটি ক্ষেত্র হলো সাইবার নিরাপত্তা।’

রাষ্ট্রদূত জানান, মানবাধিকার, সাম্প্রতিক গ্রেফতার এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে সংলাপে আলোচনা হবে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই গ্রেফতারগুলো স্বচ্ছ উপায়ে হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপারেশনে কেউ মারা গেলে তার তদন্ত হয় এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া হয়। তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হলে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং সুষ্ঠু তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত হলে বাংলাদেশ তার জন্য সাধুবাদও পাবে।’

বাংলাদেশে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা যতটুকু বাড়ানো সম্ভব, তা করেছি। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। আমরা এখানকার আইন মেনে আমাদের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দিচ্ছি।’

বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সবাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, কিন্তু তাদের মধ্যে সম্মিলিত কোনও মেকানিজম নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আমরা সে বিষয়ে চিন্তা করছি।’

রাষ্ট্রদূত জানান, নিরাপত্তা ছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, পরিবেশ এবং অন্যান্য বিষয়গুলোও সংলাপে আলোচিত হবে।

অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি টমাস এ শ্যানন নেতৃত্ব দেবেন।

আরও পড়ুন:

ফ্লোরিডার সমকামী নাইটক্লাবে হামলার ভূয়সী প্রশংসায় মার্কিন ধর্মযাজক

৫০ বছরে হরিণ বেড়েছে মাত্র ৬৪টি

সুন্দরবনে র‌্যাবের অভিযান: ৮ বছরে নিহত ৮৮ বনদস্যু

/এসএ/ এপিএইচ/

আরও পড়ুন: