বিশিষ্ট আলেমরা বলছেন

পশ্চিমা পণ্ডিতরা আমাদের সন্তানদের ভুলপথে পরিচালনা করছে

সংবাদ সম্মেলন

দেশের আলেমরা নয়, কয়েকজন পশ্চিমা পণ্ডিত রয়েছেন যারা নতুন প্রজন্মের কাছে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ভুল পথে পরিচালনা করছেন। এছাড়া জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোনও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জড়িত না। কোনও ঘটনার সঙ্গে এখন পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে ‘একলক্ষ মুফতি, উলামা ও আইম্মার দস্তখতসম্বলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতওয়া’ ঘোষণা করতে আসা আলেমরা বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এ মন্তব্য করেন।

তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা লিয়াকত আলী মাসউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু পশ্চিমা পণ্ডিত ও প্রাচ্যের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে এই সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টার্গেট করেছেন তারা। এসব শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই করে এই জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের মূল ধারা বা গতিকে নষ্ট করে সন্ত্রাসীরা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে। পশ্চিমা পণ্ডিতদের এজেন্টরা আমাদের শান্তির ধর্মকে অশান্ত করে ফেলেছে।’

ফতোয়া ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ম্যাসেঞ্জার(বার্তাবাহক) । আমাদের দায়িত্ব হলো প্রচার করা। কে মানলো বা মানলো না তা দেখার বিষয় না।’

কোনও কোনও পক্ষ দাবি করেছে- সরকারের সঙ্গে আপনাদের সমঝোতা হয়েছে। এই দাবির যৌক্তিকতা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সরকারের কোনও কথা হয়নি। নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই এই কাজ করতে এসেছি। আমাদের বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা’র চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ কখনও কোনও সরকারের প্রোগ্রামে দেখি না। তার অনুসারীরাও যায় না। এখানে সরকারের কোনও হাত নেই।’

মাওলানা আইয়ুব আলী আনসারী দিনাজপুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যে ধর্ম মানুষকে শান্তির পথ দেখায় সেই ধর্মকে যারা আগুন বানিয়েছে, আমরা তাদের আহ্বান জানাতে আসছি যে, তারা যে পথে আছে সেটা ভুল পথ, শান্তির পথ না। মানুষের না জানা থাকলে মানতে পারে না তাই আমরা ইসলামের মূল বিষয়টি তাদের জানাতে আসছি।’

তিনি বলেন, ‘তারা ইসলামের অপপ্রয়োগ করে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হচ্ছে। আমরা এই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই কথা বলতে আসছি। জানাতে আসছি যে- এটা ঠিক পথ না।’

এই ফতোয়া মানুষ মানবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে এই মাওলানা বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পালন করছি। মানা না মানা তাদের। তবে আশা করি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আমরা কোরআন ও হাদিসের তথ্য দিয়ে ফতোয়া দিয়েছি। এটা মনগড়া কিছু না।’

আলেমদের মধ্যে অনেকেই আপনাদের ঘোষিত ফতোয়ার বিরোধিতাও করেছে, তাদের বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা বিরোধিতা পেয়েছি। তবে তারা কেউ বাধা না। কাজ করতে গেলে বিরোধিতা থাকবেই- এটা স্বাভাবিক। তবে সাধারণ মানুষ আমাদের সাধুবাদ জানিয়েছে। মানুষের মুক্তির কথা বলতে এসেছি আমরা।’

ফতোয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে? এর জবাবে মাওলানা মুফতি আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘ফতোয়ার বইটি দেশের প্রত্যেকটি মসজিদের ইমামের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা এ বিষয়ে বলবেন। তাছাড়া আমাদের প্রত্যেকটি এলাকায় দাওয়াতি লোক আছে তারাও কাজ করবে।’

/এএইচ/