‘বজ্রপাতের আগাম বার্তা দিতে কাজ করছে সরকার’

প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাতে মৃত্যুর হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং বজ্রপাতের আগাম বার্তা দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। শনিবার রাজধানীর হোটেল অবকাশে বজ্রপাতে করণীয় বিষয়ে জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবছর বজ্রপাতে এখন পর্যন্ত সারাদেশে শতাধিক লোক মারা গেছেন। সরকার তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে ১৮ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করেছে। এসব পরিবার অস্বচ্ছল হলে তাদেরকে ভিজিএফ কার্ড দিয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তন তথা উষ্ণায়নের কারণে বজ্রপাতের মাত্রা বেড়ে গেছে কিনা তার ওপর গবেষণার জন্য প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী গবেষকদের অনুরোধ করেন। মোবাইল টাওয়ারের কারণে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে বজ্রপাতের সময় টেলিফোন লাইন ব্যবহার না করাই ভালো।

এছাড়া অধ্যাপক ড. এম আরশাদ মোমেন বজ্রপাত হয় এমন মেঘের ধরণ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপমহাদেশে দীর্ঘ খরার কারণে এবছর বজ্রপাত বেশি হচ্ছে বলেও জানান আবহাওয়াবিদ মো. শামিম হাসান ভূইয়া।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামালের সভাপতিত্বে কর্মশালায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, তাত্ত্বিক পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এম আরশাদ মোমেন, অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরিন ও জাইকার কান্ট্রি প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নাওকি মাতসুমুরা।

কর্মশালায় ভূমিকম্পে দেশ বিদেশের অভিজ্ঞতা, পূর্ব প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, জনগণের করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সংবাদকর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ ১৭ ক্যাটাগরির স্টেকহোল্ডার অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় বজ্রপাতে মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে আগাম বার্তা প্রদানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্থানীয় সরকার কাঠামো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর বিষয়টি নিরীক্ষা পর্যায়ে আছে: সংসদে রেলপথ মন্ত্রী
/এমও/