ঘটা করে জাকাত দিতে পুলিশের অনুমতি লাগবে

জাকাতযারা বড় আয়োজন করে জাকাত দেবেন তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ সেখানে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে প্রাণহানি বা কোনও প্রকার দুর্ঘটনা না ঘটে।
অতীতে জাকাত নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘জাকাত প্রদান নিশ্চয়ই ভালো উদ্যোগ। তবে মানুষের নিরাপত্তা আগে। অতীতে দেখা গেছে বড় আয়োজন করে জাকাতের কাপড় দেওয়ার সময় পদদলিত হয়ে মানুষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এবছর জাকাত প্রদানের অনুষ্ঠানে যাতে কোনও প্রকার বিশৃঙ্খলা না ঘটে সেজন্য আয়োজকদের সহায়তা করতে চায় পুলিশ।এতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।’
গত বছর রমজানে ময়মনসিংহে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ২৭ জনের মৃত্যুর পর পুলিশ এ সিদ্ধান্ত নেয়। এবারও আয়োজন করে জাকাত দেওয়ার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এখন থেকে জাকাত প্রদানের আগে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে। সেখানে জাকাত প্রদান করা যাবে কিনা, এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট দেবেন। পুলিশ সুপার তার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে জানাবেন।
প্রতিবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালিয়ে জাকাত প্রদানের অনুষ্ঠানে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটান। এ প্রচারণায় দেশের দারিদ্র মানুষ জাকাতের কাপড়ের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান।
১৯৯০ সালের ২৬ এপ্রিল পাহাড়তলীর আবুল বিড়ি ফ্যাক্টরিতে জাকাত নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ৩৫ জন নিহত হন। এসময় আহত হন দুই শতাধিক মানুষ।
১৯৮৯ সালের ৫ মে চাঁদপুরে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যান ১৪ জন। এসময় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।

১৯৮৭ সালের ২৩ মে ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় সরকারিভাবে জাকাত প্রদানকালে ব্যাপক লোক সমাগম হয়। এক পর্যায়ে জনগণ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় মধ্যে পড়ে ৪ জন মারা যান।

১৯৮৩ সালের ৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জাকাতের টাকা নিতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পড়ে ৩ শিশু মারা যায়।

১৯৮০ সালে ঢাকার জুরাইনে জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

জাকাত প্রদানে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া ও প্ল্যানিং বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম শহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যাকাত প্রদানের সময় যাতে কোনও রকম দুর্ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ বরাবরের মত এবারও সতর্ক রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি একসঙ্গে বেশি মানুষকে জাকাতের কাপড় বা উপহার সামগ্রী দিতে চায় তাদের আমরা সহায়তা করবো। তবে আয়োজকদের আমাদের জানাতে হবে।’

কেউ যদি না জানিয়ে কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবং সেখানে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে তার দায় দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

/এআরআর/এমএসএম/

আরও পড়ুন: 
কারা মহাপরিদর্শকের ‘শেষ দেখে নেওয়ার’ হুমকি

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক অনন্য মহিলা মাদ্রাসা!

নম্বরবিহীন গাড়িতে করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ঢুকেছে উত্তরায়: পুলিশ