সর্বোচ্চ আদালতের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল থাকার বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করেছেন একাত্তরের বদর নেতা মীর কাসেম আলী। শনিবার তার ছেলে ও আইনজীবীরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করার পর রিভিউ করার কথা জানিয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখলে সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। সেটি হাতে পেয়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। সেই মৃত্যু পরোয়ানা ফাঁসির আসামিকে পড়ে শোনান কারা কর্তৃপক্ষ।
পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার নিয়ম। সেই নিয়ম মেনেই আবেদন করেছে মীর কামেস। তবে রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ‘রিভিউ’ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই স্পষ্ট করা হয়েছে।
রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এবং তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি স্বজনদের সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন।
চূড়ান্ত রায়ের দিন আপিল বেঞ্চের পাঁচ বিচারক আসন নেওয়ার পর ৯টা ৪০ মিনিটে চারটি বাক্যে রায়ের আদেশ অংশ ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। রায়ে বলা হয়, মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আপিল নাকচ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ ৬৩ বছর বয়সী মীর কাসেমকে আখ্যায়িত ‘বাঙালি খান’ হিসেবে। তিনি সে সময় জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আরও পড়ুন: উত্তরার খাল থেকে ফের গোলাবারুদ উদ্ধার
/ইউআই/এসটি/